1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tista24 :
September 6, 2026, 5:21 pm

গু/লি/তে মরা খবর নিশ্চিত, গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম,

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, February 5, 2026
  • 152 Time View

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক;

লিবিয়ার প্রাক্তন নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিলেন সাইফ আল‑ইসলাম গাদ্দাফি। মঙ্গলবার লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে সশস্ত্র হামলায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। ৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল‑ইসলাম ছিলেন গাদ্দাফির দ্বিতীয় ছেলে। ২০১১ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি কারাবন্দী হলেও ২০১৭ সালে মুক্তি পান এবং তখন থেকেই রাজনীতিতে পুনরায় প্রবেশের পরিকল্পনা শুরু করেছিলেন।

সাইফ আল‑ইসলামের ঘনিষ্ঠজনদের একজন রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান এবং আইনজীবী খালেদ আল-জাইদি তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক দল জানিয়েছে, চারজন মুখোশধারী জিনতানে সাইফ আল‑ইসলামের বাড়িতে ঢুকে তাঁকে হত্যা করেছে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা, ন্যাটো হামলা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সাইফ আল‑ইসলামের জীবনকে দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ করেছিল।

গাদ্দাফির প্রতি অনুগত হিসেবে, ২০১১ সালের লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় সাইফ আল‑ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা এবং রাজনৈতিক পুনর্গঠন চেষ্টায় সক্রিয় ছিলেন। ২০১৫ সালে ত্রিপোলির আদালতে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের সাজা পেলেও ২০১৭ সালে মিলিশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থেকে মুক্তি পান। এরপর তিনি কয়েক বছর জনসমক্ষে না এসে আত্মগোপনে ছিলেন এবং আইসিসির ‘ওয়ানটেড’ তালিকায় ছিলেন।

২০২১ সালে সাইফ আল‑ইসলাম জনসমক্ষে পুনরায় আসেন এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেন। যদিও নির্বাচন স্থগিত হয়, পশ্চিমা শিক্ষিত এবং সাবলীল বক্তা হিসেবে তিনি নিজেকে উদারপন্থী রাজনীতিবিদ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। তিনি ২০০৮ সালে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে পিএইচডি অর্জন করেছিলেন এবং বিশ্বশাসন সংস্কারে নাগরিক সমাজের ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করেছিলেন।

সাইফ আল‑ইসলাম আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচক ছিলেন। তিনি লকারবি বোমা হামলা, বার্লিন নাইট ক্লাব এবং ইউটিএ ফ্লাইট ৭৭২-এর নিহতদের পরিবারের সঙ্গে ক্ষতিপূরণের আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছিলেন। ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে লিবিয়ায় শিশুদের এইচআইভি সংক্রমণের অভিযোগে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের মুক্তি ও ফিলিস্তিনি-ইসরায়েল সংঘাত সমাধানের ‘ইসরাটিন’ প্রস্তাবেও তাঁর ভূমিকা ছিল। এছাড়াও, তিনি ফিলিপাইন ও মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্টের মধ্যে শান্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

সাইফ আল‑ইসলামের মৃত্যু লিবিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নতুন দিকচিহ্ন সৃষ্টি করবে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিসরকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Jaldhaka IT Park
Theme Customized By LiveTV