তিস্তা নিউজ ডেস্ক:
আগামী শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সম্ভাব্যভাবে বৈঠকে বসতে পারেন। বিষয়টি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এক কর্মকর্তা থেকে নিশ্চিত তথ্য পেয়েছে। এই বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে মিশর, কাতার, তুরস্ক এবং ওমানের মধ্যস্থতায়।
তেহরান সম্প্রতি পুনরায় পারমাণবিক আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে স্পর্শকাতর প্রেক্ষাপটের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি। তিনি শুধু বলেন, মার্কিন মধ্যস্থতাকারী ও ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠক শুক্রবার তুরস্কে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। এক্স-এ দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, হুমকি বন্ধ এবং অযৌক্তিক প্রত্যাশা না থাকলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে সমতাভিত্তিক আলোচনা চালানো হবে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এই আলোচনা ইরানের জাতীয় স্বার্থ বজায় রাখবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিক্ষোভ ও সামরিক হুমকির মধ্যে একটি মীমাংসায় পৌঁছানোর ব্যাপারে আশাবাদী। গত সোমবার তিনি বলেন, কোনো চুক্তি না হলে “খারাপ কিছু ঘটতে পারে।” তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনও সামরিক চাপ বজায় রাখছে এবং পারস্য উপসাগরে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জোর দেওয়া হয়েছে, আলোচনায় শুধুমাত্র পারমাণবিক বিষয়ই সীমাবদ্ধ থাকবে; ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সিএনএনকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমতাভিত্তিক চুক্তি করা সম্ভব এবং সঠিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আলোচনায় বসার সুযোগ রয়েছে।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কাতার, তুরস্ক, মিসর ও ওমানের মধ্যস্থতায় বৈঠক আয়োজন করা হচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ চূড়ান্ত করা হচ্ছে। আরাগচি ইতিমধ্যে সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয় পক্ষই সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে, যদিও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কঠোর অবস্থানে আছেন। মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফও আজ মঙ্গলবার ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
Leave a Reply