তিস্তা নিউজ ডেস্ক:
২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটা ছাড়াও গাওদার, মাসতাং ও নোশকি জেলায় একযোগে ভয়াবহ বন্দুক ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় চালানো এসব হামলায় মোট ৪৮ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৭ জন ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং বাকি ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক। এ তথ্য নিশ্চিত করেন বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি।
হামলার পর পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী তালাল চৌধুরী এক ব্রিফিংয়ে জানান, হামলাকারীরা সবাই সাধারণ বেসামরিক পোশাক পরিহিত ছিল। এই ছদ্মবেশ ব্যবহার করে তারা জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় সহজেই মিশে যেতে সক্ষম হয় এবং পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতা সামনে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
৩০ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ বেলুচ স্বাধীনতাকামী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এসব হামলার দায় স্বীকার করে একটি বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, তারা ‘অপারেশন ব্ল্যাক স্টর্ম’-এর আওতায় পাকিস্তানের সেনা, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে এই সমন্বিত হামলা পরিচালনা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, কোয়েটার একাধিক পুলিশ স্টেশন শক্তিশালী আইইডি বিস্ফোরণে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
বিএলএ দাবি করেছে, এই অভিযানে তারা পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ৮৪ জন সদস্যকে হত্যা এবং ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
বিএলএ’র দায় স্বীকারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো বেলুচিস্তানজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টানা ৪০ ঘণ্টা ধরে এই অভিযান চালানো হয়। তার দাবি, এত অল্প সময়ে এত বড় পরিসরের অভিযান আগে কখনও পরিচালিত হয়নি।
ভৌগোলিক আয়তনের দিক থেকে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বেলুচিস্তান খনিজ সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ হলেও এটি দেশটির সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চল। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর থেকেই এখানকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সশস্ত্র গোষ্ঠী স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। ইসলামাবাদ বরাবরই এসব আন্দোলন কঠোর হাতে দমন করে আসছে, আর সাম্প্রতিক অভিযান সেই নীতিরই সর্বশেষ উদাহরণ।
Leave a Reply