তিস্তা নিউজ ডেস্ক:
কলম্বিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নর্তে দে সান্তান্দের বিভাগের একটি প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় বুধবার (২৮ জানুয়ারি) একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে বিমানে থাকা ১৫ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। সরকারি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, নিহতদের মধ্যে দেশটির একজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য এবং আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনের একজন পদপ্রার্থীও রয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কলম্বিয়াজুড়ে গভীর শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা ‘সাতেনা’ পরিচালিত ছোট আকারের বিমানটি কুরাছিকা নামক পাহাড়ি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। দুর্গম ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলকে বেশ বেগ পেতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাথমিকভাবে উদ্ধারকাজে কিছুটা বিলম্ব হলেও পরবর্তীতে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে।
কলম্বিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর দ্রুত উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা নিশ্চিত হয় যে বিমানে থাকা কোনো যাত্রী কিংবা ক্রু সদস্যই জীবিত নেই। দুর্ঘটনার তীব্রতায় বিমানটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
বিমানের যাত্রাপথ সম্পর্কে জানা গেছে, ‘এইচকে৪৭০৯’ রেজিস্ট্রেশন নম্বরের বিমানটি স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে সান্তান্দের বিভাগের রাজধানী কুকুতা বিমানবন্দর থেকে ওকানিয়া শহরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। সাধারণত এই রুটে পৌঁছাতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে। তবে উড্ডয়নের মাত্র কয়েক মিনিট পরেই বিমানটি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে প্রতিকূল আবহাওয়া বা যান্ত্রিক ত্রুটিকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কলম্বিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা গেলে প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনায় কলম্বিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিয়া মার্কেজও একে দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বলে উল্লেখ করেছেন।
নিহত সংসদ সদস্য কুইনতেরোর রাজনৈতিক দল ‘ইউ পার্টি’ তাকে একজন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও জনসেবায় নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছে। ভেনেজুয়েলা সীমান্তঘেঁষা এই উত্তাল অঞ্চলে মানবাধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তার অকাল মৃত্যু ওই অঞ্চলে নেতৃত্বের এক বড় শূন্যতা তৈরি করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।









Leave a Reply