তিস্তা নিউজ ডেস্ক:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র শীত ও ভয়াবহ তুষারঝড়ের কারণে কমপক্ষে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা বর্তমানে ভারী তুষারপাত, বরফ জমে যাওয়া এবং প্রচণ্ড ঠান্ডার সঙ্গে লড়াই করছে। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে শীতজনিত দুর্ঘটনা, হাইপোথার্মিয়া এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা বেড়েই চলেছে।
টেক্সাসে শীতের প্রভাব সবচেয়ে মারাত্মকভাবে অনুভূত হয়েছে। ফ্রিস্কো শহরে তুষারের ওপর স্লেজ বা স্লাইডে খেলতে গিয়ে একটি দুর্ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়। এছাড়া অস্টিন এলাকায় তীব্র ঠান্ডার কারণে একজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। লুইজিয়ানায় তিনজন, মিসিসিপিতে দুজন এবং আরকানসাসে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর হাইপোথার্মিয়ায় প্রাণ হারিয়েছে। নর্থ ক্যারোলিনায় একজন পুরুষ এবং ক্যানসাসে একজন নারীও একই কারণে মারা গেছেন। নিউ ইয়র্ক সিটিতে রাস্তায় পাঁচজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যাদের মৃত্যুর কারণও তীব্র শীত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ম্যাসাচুসেটসে তুষার পরিষ্কার করার একটি গাড়ির ধাক্কায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। টেনেসিতে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এসব তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে আবহাওয়া কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানান, চলতি সপ্তাহজুড়ে ‘প্রচণ্ড শীত’ অব্যাহত থাকবে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় বিপজ্জনক মাত্রার ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক নিচে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
ঝড় ও তীব্র শীতের কারণে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সোমবার সকালে প্রায় ৮ লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন। এর মধ্যে টেনেসিতে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার এবং মিসিসিপিতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ হারান। তবে বিকেলের দিকে বিদ্যুৎবিহীন মানুষের সংখ্যা কমে প্রায় ৭ লাখে নেমে আসে। মিসিসিপির কিছু এলাকায় ঝড়ের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে এবং উদ্ধারকাজে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, অক্সফোর্ড ক্যাম্পাসে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্লাস বন্ধ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় গাছ ভেঙে পড়া, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, বরফ জমে যাওয়া এবং বিপজ্জনক রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এদিকে যাতায়াত ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। রোববার একদিনেই সাড়ে ১০ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয় এবং সোমবার প্রায় ৫ হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়। এনডব্লিউএস জানিয়েছে, নিউ ইংল্যান্ডের কিছু অংশে এখনও তুষারপাত অব্যাহত থাকলেও দেশের কেন্দ্রীয় ও পূর্বাঞ্চলে তুষারপাত অনেক জায়গায় থেমে গেছে। ম্যাসাচুসেটসে সপ্তাহান্তে সর্বোচ্চ ৫১ সেন্টিমিটার এবং পেনসিলভানিয়ায় ৫৮ সেন্টিমিটার তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসিতে গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রতিষ্ঠান সোমবার বন্ধ ছিল। নিউ ইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি, স্মিথসোনিয়ান মিউজিয়াম, ন্যাশনাল জু এবং সরকারি স্কুলগুলো রিমোট ক্লাসে স্থানান্তর করা হয়েছে। আবহাওয়া কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, সপ্তাহজুড়ে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে থাকতে পারে। এ ছাড়া সপ্তাহের শেষের দিকে পূর্বাঞ্চলে আরেকটি বড় তুষারঝড় আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেন্টাকি গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার জনগণকে অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
Leave a Reply