তিস্তা24 নিউজ ডেস্ক:
চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপক্ষীয় শান্তি বৈঠক। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে দুই দিন ধরে চলা এই আলোচনার পরও যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কোনো শান্তি চুক্তি বা চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। তবে তিন পক্ষই আলোচনা প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি আবুধাবিতেই আবারও পরবর্তী দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, প্রায় চার বছর ধরে চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ বিরতির পর এটি ছিল ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি ত্রিপক্ষীয় আলোচনা। মার্কিন কর্মকর্তারা এ আলোচনাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হিসেবে বর্ণনা করলেও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাশিয়ার চলমান হামলার কারণে আলোচনার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৈঠক চলাকালীন সময়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রাশিয়া। ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হন। পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ, পানি ও তাপ সরবরাহে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
জেলেনস্কি বলেন, আলোচনায় যুদ্ধ অবসানের কাঠামো, ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি আলোচনাকে গঠনমূলক হিসেবে উল্লেখ করলেও স্বীকার করেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে এখনও বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক বাধা রয়ে গেছে।
বৈঠকে ইউক্রেনের পক্ষে প্রধান আলোচক হিসেবে অংশ নেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ এবং সামরিক গোয়েন্দা প্রধান কিরিলো বুদানভ। রাশিয়ার পক্ষে সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেন।
এর আগে মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দূতদের দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মধ্যেও বৈঠক হয়। এদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় খারকিভ অঞ্চলের একটি গ্রাম দখলের দাবি করলেও ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে।
এ প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে ‘বিভ্রান্ত ক্লাউন’ বা ভাঁড় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ইরানের সরকার সাধারণ মানুষকে হত্যা করে ক্ষমতায় টিকে আছে—জেলেনস্কির এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ ভাষা ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সাধারণ মানুষের করের অর্থ দিয়ে জেলেনস্কি ও তাঁর সেনাবাহিনীর দুর্নীতিগ্রস্ত জেনারেলরা নিজেদের পকেট ভারী করছেন।
Leave a Reply