অনলাইন ডেস্ক,
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ভারী তুষারঝড়ের কারণে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে প্রচণ্ড ঠান্ডা, ঝোড়ো হাওয়া এবং লাগাতার তুষারপাত জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এতে করে লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
প্রচণ্ড তুষারপাতের ফলে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে বরফ জমে যায় এবং অনেক স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটির ওপর আছড়ে পড়ে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিছু এলাকায় একটানা কয়েক ঘণ্টা, আবার কোথাও কোথাও দিনের পর দিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। তীব্র শীতে ঘর গরম রাখার ব্যবস্থা না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে সড়ক ও আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বরফে ঢাকা সড়কে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বহু দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। অনেক অঞ্চলে জরুরি সেবা পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। একই সঙ্গে খারাপ আবহাওয়ার কারণে শত শত ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে, ট্রেন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে ভ্রমণকারী ও কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগ নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে মেরামত কাজ চালানো হচ্ছে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাসপাতাল ও জরুরি সেবাকেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেক স্থানে কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, শৈত্যপ্রবাহ ও তুষারঝড়ের প্রভাব আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। এ অবস্থায় নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার, নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
Leave a Reply