নীলফামারীর চারটি আসনে মোট ৩১ জন প্রার্থী বৈধতা পেয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান এ তালিকা প্রকাশ করেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারী-১ আসনে ১০ জন, নীলফামারী-২ আসনে ৬ জন, নীলফামারী-৩ আসনে ৪ জন এবং নীলফামারী-৪ আসনে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
তফসিল অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর আগামী বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করা হবে এবং বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামবেন। উল্লেখ্য, চারটি আসনে মোট ৪০ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে ৩৩ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই ও আপিল শেষে ৩১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নীলফামারী-১: ডোমার উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং ডিমলা উপজেলার ১০ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। জেলা রিটার্নিং অফিসার যাচাই-বাছাইয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। প্রার্থীরা হলেন জামায়াতের মাওলানা আব্দুস সাত্তার, বিএনপি জোটের শরীক মাওলানা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল জলিল, জাতীয় পার্টির মেজর (অব.) তছলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফ্রন্টের সিরাজুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের মো. সাদ্দাম হোসেন, বাসদ (মার্কসবাদী) মো. রফিকুল ইসলাম, জেপি (মঞ্জু) মো. মখদুম আজম মাশরাফী, ন্যাপের জেবেল রহমান গানি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম।
নীলফামারী-২: জেলা সদর উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাইয়ে ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল, তবে একজন আপিল করে বৈধতা পান। বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপির শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, জামায়াতের আল ফারুক আব্দুল লতীফ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাসিবুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের সারোয়ারুল আলম বাবু, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফ্রন্টের সিরাজুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজ।
নীলফামারী-৩: একটি পৌরসভা ও ১১ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ৪জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন, ৪জন প্রার্থী আপিলে বৈধতা পেয়েছেন। তাই এখানে ৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন: বিএনপির সৈয়দ আলী, জামায়াতের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী ও ইসলামী আন্দোলনের আমজাদ হোসেন ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী রোহান চৌধুরী ।
নীলফামারী-৪: সৈয়দপুর উপজেলার ৫ ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা, একটি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ও কিশোরীগঞ্জ উপজেলার ৯ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ১২ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন, যাচাই-বাছাইয়ে চারজন বাতিল হন। আপিলে তিনজন বৈধতা পান। এখন এই আসনে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এভাবে নীলফামারীর চারটি আসনে নির্বাচনী প্রচারণার প্রস্তুতি সম্পন্ন হচ্ছে, এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হবে।
Leave a Reply