নিজস্ব প্রতিনিধি,
ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখল করার ভাবনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়নযোগ্য না হলেও এর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া ইতোমধ্যেই স্পষ্ট। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে যে অস্বস্তি ও মতবিরোধ তৈরি হয়েছে, তা রাশিয়ার জন্য এক ধরনের কৌশলগত স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মস্কো এই পরিস্থিতিকে ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ ঐক্যে ফাটল ধরানোর সুযোগ হিসেবে দেখছে।
গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হওয়ায় ট্রাম্পের মন্তব্য ইউরোপে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা একে সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখেন। এর ফলে স্পষ্ট হয়, নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রশ্নে ওয়াশিংটন ও ইউরোপের মধ্যে আস্থার দূরত্ব বাড়ছে। ন্যাটোর মতো জোটের জন্য এই বিভাজন অত্যন্ত সংবেদনশীল।
রাশিয়া বহুদিন ধরেই ন্যাটোর ঐক্য দুর্বল করার কৌশল অনুসরণ করে আসছে। আর্কটিক অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার, সামরিক ঘাঁটি জোরদার এবং প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ মস্কোর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ যদি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে একে অপরের বিপরীতে অবস্থান নেয়, তাহলে ন্যাটোর সম্মিলিত শক্তি ক্ষয় হবে, যা সরাসরি রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক স্বার্থকে এগিয়ে নেবে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখল ভাবনা বাস্তবে রূপ না নিলেও এর সৃষ্টি করা বিভাজন রাশিয়ার জন্য একটি কূটনৈতিক সুযোগে পরিণত হয়েছে।
Leave a Reply