নিজস্ব প্রতিনিধি,
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা চালিয়ে দ্রুত শাসন পরিবর্তন ঘটানো সহজ নয়—এই ধারণার পেছনে বাস্তবতার বড় ঘাটতি রয়েছে। ইতিহাসে দেখা যায়, উদারপন্থী নয় এমন অনেক শাসনব্যবস্থা পতনের আগমুহূর্তেও নিজেদের শক্তিশালী ও স্থায়ী হিসেবে তুলে ধরে। আবার গণ-অভ্যুত্থানের সময় বাইরের কোনো বড় সামরিক আঘাতেই বুঝি পতন আসবে—এমন এক ভ্রান্ত আশাও তৈরি হয়। ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই বিভ্রান্তি লক্ষণীয়। তবে বাস্তবতা হলো, ইসলামিক রিপাবলিক একটি গভীরভাবে সংহত ও নেটওয়ার্কভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা।
ইরানের শক্তির মূল উৎস তার অভ্যন্তরীণ সংহতি। রাজনৈতিক নেতৃত্ব, নিরাপত্তা বাহিনী, রেভোল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি), গোয়েন্দা সংস্থা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং অর্থনৈতিক বলয়—সব মিলিয়ে একটি বিকল্প নেতৃত্ব ও চেইন অব কমান্ড-সমৃদ্ধ কাঠামো গড়ে উঠেছে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা স্থাপনায় আঘাত হানলেই পুরো ব্যবস্থার পতন ঘটে না। বরং বাইরের হামলা অনেক সময় জাতীয় সংহতিকে আরও শক্তিশালী করে এবং কট্টরপন্থীদের দমন-পীড়নের অজুহাত জোগায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও ইরান প্রশ্নে দ্বিধা স্পষ্ট। একদিকে বলপ্রয়োগে সরকার পরিবর্তনের দাবি, অন্যদিকে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কারণে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এড়ানোর প্রবণতা। আঞ্চলিক বাস্তবতাও যুক্তরাষ্ট্রের হাত বেঁধে রাখে—ইসরায়েল কঠোর পদক্ষেপ চাইলেও উপসাগরীয় দেশগুলো কূটনীতির পক্ষে। তাই বড় আকারের বিমান হামলা রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত লক্ষ্য ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা নয়, বরং একটি ‘বাস্তববাদী ইরান’ গড়ে তোলা—যা পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সংযত হবে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাবে। সীমিত শাস্তিমূলক হামলা বা সাইবার অভিযান আলোচনায় চাপ তৈরির উপায় হতে পারে, কিন্তু তা এককভাবে শাসন পরিবর্তন আনতে পারবে না। ইরানে টেকসই পরিবর্তনের একমাত্র পথ হলো অভ্যন্তরীণ বিভাজন সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের সুযোগ তৈরি করা।
Leave a Reply