নিজস্ব প্রতিনিধি,
গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এখন আর শুধু একটি দ্বীপের ভবিষ্যৎ প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ন্যাটোর ঐক্য, পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ভিত্তিকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। ডেনমার্ক স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে—গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একতরফা কোনো পদক্ষেপ নিলে তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, ডেনমার্কের সম্মতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তা কার্যত ন্যাটোর অবসান ডেকে আনবে। তাঁর ভাষায়, ন্যাটোর মূল নীতি হলো—এক সদস্যের ওপর আক্রমণ মানে সব সদস্যের ওপর আক্রমণ। সেই জোটের ভেতর থেকেই যদি কোনো দেশ মিত্র রাষ্ট্রের ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা করে, তবে ন্যাটোর নৈতিক ও কৌশলগত ভিত্তি ভেঙে পড়বে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন এবং সেখানে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকানোর কথা বলেছেন। তবে রাসমুসেন চীনা উপস্থিতির অভিযোগ নাকচ করে জানান, গ্রিনল্যান্ডে চীনের কোনো সামরিক বা বিনিয়োগ কার্যক্রম নেই।
গ্রিনল্যান্ডের জনগণও যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে যাওয়ার পক্ষে নয় বলে জানান তিনি। ডেনমার্কের কল্যাণ রাষ্ট্রব্যবস্থার সুবিধাই এর বড় কারণ। একই সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র একটি উচ্চপর্যায়ের ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে। আর্কটিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ডেনমার্ক ইতোমধ্যে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।
Leave a Reply