নিজস্ব প্রতিনিধি,
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে আরও জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সশস্ত্রভাবে গ্রেপ্তারের পর থেকেই অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ কঠোর অবস্থান নেন। শপথ গ্রহণের পরপরই তিনি ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানান এবং একে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকাকেও প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডেলসি রদ্রিগেজের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পরিণতির হুমকি দেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। তবে এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই হঠাৎ করে ওয়াশিংটনের প্রতি তুলনামূলক নরম অবস্থান নিতে শুরু করে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার।
এক বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে যৌথ উন্নয়নমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতায় আগ্রহী তাদের সরকার। তিনি বলেন, উভয় দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানিয়ে একটি নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ভেনেজুয়েলা। এর আগে মাদুরোর গ্রেপ্তারকে ‘অপহরণ’ বলে অভিহিত করলেও এখন তিনি কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত দেন।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা যদি তাদের তেল খাত বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত না করে এবং মাদক পাচার রোধে সহযোগিতা না করে, তাহলে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল তাদের “লুট হয়ে যাওয়া সম্পদ” ফিরিয়ে নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় ফিরে গিয়ে দেশটির পেট্রোলিয়াম শিল্প পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, সংঘাত ও সমঝোতার মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে।









Leave a Reply