নিজস্ব প্রতিনিধি,
পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন নোরিন খান নিয়াজি ভারতের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, নোরিন নিয়াজি ওই সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন, অথচ ভারতীয় নেতৃত্বের সমালোচনা বা দুই দেশের আঞ্চলিক ইস্যুগুলো—বিশেষ করে কাশ্মীর কিংবা ভারতে মুসলমানদের অধিকার—নিয়ে কিছুই বলেননি।
ইমরান খানের সঙ্গে স্বজনদের দেখা করতে না দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা চলছিল গত কয়েক সপ্তাহ ধরে। এর মধ্যেই ইমরানের তিন বোন আদিয়ালা কারাগারের বাইরে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং দাবি করেন, ইমরানের সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তথ্যমন্ত্রী নোরিন নিয়াজির সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের নাগরিক হয়েও কীভাবে তিনি ভারতীয় চ্যানেলে গিয়ে কেবল নিজের ভুক্তভোগী হওয়ার অভিযোগ তুলে ধরলেন, অথচ পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে কথা বললেন না।
তারারের অভিযোগ, ভারতীয় চ্যানেলগুলো ইমরানের পরিবারকে প্ল্যাটফর্ম দিচ্ছে কারণ তারা পাকিস্তানবিরোধী মনোভাব পোষণ করে। তিনি আরও দাবি করেন, ইমরানের বোনেরা ২০২৩ সালের ৯ মে ইমরান খানের প্রথম গ্রেপ্তারের পর সৃষ্ট সহিংসতায় উপস্থিত ছিলেন এবং কোর কমান্ডারের বাসভবনে হামলার সময় তাঁদের সেখানে দেখা গেছে। তাঁর ভাষায়, এই উপস্থিতিই তাঁদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ।
অন্যদিকে পিটিআইয়ের অভিযোগ, কারাগারের বাইরে ইমরানের বোনেরা ও দলের নারী সদস্যরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলেন, কিন্তু পুলিশ অযথা তাঁদের ওপর সহিংস আচরণ করেছে। এ বিষয়ে সরকার ভিন্নমত পোষণ করে এবং ঘটনাকে নিরাপত্তাবিধি ভঙ্গের অভিযোগে ন্যায়সংগত বলে দাবি করে।
ইমরান খান আগস্ট ২০২৩ থেকে কারাবন্দী। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সন্ত্রাসবিরোধী আইন লঙ্ঘনসহ একাধিক মামলা চলছে। সম্প্রতি ভারতের কিছু সংবাদমাধ্যমে ইমরানের স্বাস্থ্য ও তাঁর সম্ভাব্য মৃত্যু নিয়ে গুজব ছড়ায়। কোথাও কোথাও বলা হয়, তাঁকে আদিয়ালা কারাগার থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে কারাগার কর্তৃপক্ষ। তাঁদের বিবৃতিতে বলা হয়, ইমরান খান সুস্থ আছেন, তাঁকে কোথাও স্থানান্তর করা হয়নি এবং প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা সেবা তিনি পাচ্ছেন।
তথ্যমন্ত্রীর মতে, এসব গুজব ও ভারতীয় মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দেওয়া—সবই সরকারের সাম্প্রতিক সাফল্য থেকে জনগণের মনোযোগ সরানোর রাজনৈতিক কৌশল মাত্র।
Leave a Reply