নিজস্ব প্রতিনিধি,
পাকিস্তানের আদিয়ালা কারাগারে আটক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক ও অস্বচ্ছ হয়ে উঠছে। তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তাঁর সঙ্গে আইনজীবী, পরিবার বা দলীয় নেতাদের কাউকেই দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে কারাগারের ভেতরে তাঁর শারীরিক অবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ঠিক এই অবস্থাতেই হঠাৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব, যা ভারতীয় ও আফগান অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো আরও জোরালো করে তোলে এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার আদিয়ালা কারাগারের সামনে আন্দোলনে নামেন পিটিআই সমর্থকরা। সেখানে বিক্ষোভে যোগ দিতে আসেন ইমরান খানের তিন বোন—নরিন খান, আলিমা খান ও উজমা খান। শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি থেকে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে সংঘর্ষ বাধে। পিটিআইয়ের অভিযোগ, পুলিশ প্রথমে কারাগারের আশেপাশের স্ট্রিটলাইট নিভিয়ে এলাকা অন্ধকার করে, এরপর বোনদের ওপর বলপ্রয়োগ করে। এতে তাঁদের তিনজনই আহত হন।
পাঞ্জাব পুলিশের আইজিপির কাছে পাঠানো চিঠিতে নরিন খান লিখেছেন, তারা কোনো রাস্তা অবরোধ বা আইন লঙ্ঘন করেননি। তবুও পুলিশ তাঁদের ওপর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে। ৭১ বছর বয়সী নরিন দাবি করেন, তাঁকে চুল ধরে টেনে ফেলে দেওয়া হয়, এবং রাস্তায় টেনে নেওয়ার সময় তাঁর শরীরে আঘাত লাগে। ঘটনাটি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নজর কেড়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে পিটিআইয়ের নেতারা বলছেন, ইমরান খানকে ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে। তাঁর কাছে বই, পোশাকসহ মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আইনজীবী খালিদ ইউসুফ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন—“এখানে আইনের শাসন বলতে কিছু নেই, চলছে জঙ্গলের আইন।” ইমরান খানের আইনি টিমের সদস্যরা জানান, তাঁরা আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত সাক্ষাৎ করতে পারছেন না।
এমনকি খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোয়েল আফ্রিদিও টানা সাতবার চেষ্টা করেও ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। পিটিআইয়ের অভিযোগ, কারাগারের প্রশাসনকে কার্যত একজন সামরিক কর্মকর্তা নিয়ন্ত্রণ করছেন, যা পাকিস্তানের রাজনীতিতে আবারও সেনাবাহিনীর অস্বচ্ছ প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়।
বারবার সাক্ষাৎ নিষেধাজ্ঞা, তথ্য প্রবাহ কমে যাওয়া, পরিবার ও আইনজীবীদের ওপর দমন–পীড়ন, এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া অনিয়ন্ত্রিত গুজব—সব মিলিয়ে ইমরান খানের প্রকৃত শারীরিক অবস্থাকে ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহল বলছে, এমন পরিস্থিতি শুধু আইন ও গণতন্ত্রের জন্য নয়, দেশের স্থিতিশীলতার জন্যও মারাত্মক সংকেত।
Leave a Reply