স্টাফ রিপোর্টার,
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নীলফামারী-০৩ (জলঢাকা) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন দলের প্রচার-প্রচারণায় মাঠ-ঘাট সরব হয়ে উঠলেও সোমবার (২৪ নভেম্বর) ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী জনসমাবেশ ছিল দিনব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে নেকবক্ত ফুটবল মাঠে সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এ সমাবেশে হাজারো মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘদিন পর স্থানীয়ভাবে এমন একটি বৃহৎ রাজনৈতিক জনসমাবেশে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করেছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আমিনুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-০৩ (জলঢাকা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, শিক্ষানুরাগী ও জেলা মজলিসে সুরা সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি।
বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা মজলিসে সুরা সদস্য প্রভাষক ছাদের হোসেন, জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি প্রভাষক মনিরুজ্জামান জুয়েল, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও জলঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব কামারুজ্জামান, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক এম এ মুজাহিদ মাসুম এবং ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সভাপতি ও শৌলমারী ইসলামিয়া দ্বিমুখী দাখিল মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট এ.কে.এম গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।
সমাবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। তাদের প্রতিনিধি অবিনাশ চন্দ্র রায় বলেন, “আমরা সম্প্রীতির জলঢাকা চাই। উন্নয়ন, সহাবস্থান ও নিরাপদ সমাজ গঠনে সবাই একসঙ্গে কাজ করুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
বক্তারা আসন্ন নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সুস্পষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আলো, ব্যানার, মাইক এবং স্লোগানে জমে ওঠে নেকবক্ত মাঠ। তরুণ-যুবকদের অংশগ্রহণে সমাবেশে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি বলেন, “দেশে ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জনগণই মূল শক্তি। আপনারা সুযোগ দিলে শান্তি, সম্প্রীতি, জবাবদিহিতা ও উন্নয়নভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শ্রম ও স্থানীয় অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আধুনিক ও সমৃদ্ধ জলঢাকা গড়ে তোলা আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার।”
Leave a Reply