তিস্তা টিভি ডেস্ক
দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, কোনো মানুষ যেন চিকিৎসার অভাবে প্রাণ না হারায়, সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যসেবার পরিধি ও সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ বিষয়ক জাতীয় ডিসেমিনেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) আয়োজিত এ কর্মশালায় ‘আলো ক্লিনিক’ মডেলের সাফল্য, বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরাঞ্চল পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমাতে কাজ করছে। উপজেলা পর্যায়ে ধাপে ধাপে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে রোগীদের চিকিৎসার জন্য বড় শহরে ছুটতে না হয়।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী, দাতা সংস্থা ও অংশীদারদের সহযোগিতায় দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে দুর্গম অঞ্চলের রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, দক্ষ জনবল এবং আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নগরায়ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শহরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকেও সময়োপযোগী করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স এবং ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এমমানুয়েল আব্রিউ।
কর্মশালায় জানানো হয়, দ্রুত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলের জনসংখ্যা বাড়লেও এখনও অনেক নিম্ন ও মধ্যআয়ের পরিবার সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় ২০২১ সাল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ছয়টি ‘আলো ক্লিনিক’ চালু করা হয়েছে।
জাতীয় এসেনশিয়াল সার্ভিসেস প্যাকেজ (ইএসপি++)-এর আওতায় পরিচালিত এসব ক্লিনিকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬৮ জন রোগী এসব ক্লিনিক থেকে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন।
‘আলো ক্লিনিক’ মডেলের আওতায় মাতৃস্বাস্থ্য, নবজাতক ও শিশুসেবা, টিকাদান, পুষ্টি মূল্যায়ন, রোগ নির্ণয়, সাধারণ চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য পরামর্শসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এক ছাদের নিচে দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া ছয়টি ক্লিনিকের মধ্যে চারটিতে ২৪ ঘণ্টা ধাত্রী-নেতৃত্বাধীন নরমাল ডেলিভারি সেন্টার চালু রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে এক হাজারের বেশি নিরাপদ প্রসব সম্পন্ন হয়েছে, যা নগর স্বাস্থ্যসেবায় একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কর্মশালায় ‘আলো ক্লিনিক’ প্রকল্পের চার বছরের বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা, সাফল্য, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এই মডেল দেশের অন্যান্য শহরেও সম্প্রসারণ করা গেলে নগর স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে।
বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বে এবং সুইডেন সরকারের অর্থায়নে ইউনিসেফ ‘আলো ক্লিনিক’ মডেলটি উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগ দেশের নগর স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, আধুনিক ও জনবান্ধব করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Leave a Reply