তিস্তা টিভি ডেস্ক
বিএনপি নেতা রাশেদ খান দাবি করেছেন, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম নিজেরা সরাসরি কোনো দুর্নীতি বা তদবির বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন না। তবে তাদের ঘিরে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নিয়োগ সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ তুলেছেন।
বুধবার (১ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা লেখেন। ওই পোস্টে তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন নিয়োগ, বিশেষ করে জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
রাশেদ খান তার পোস্টে উল্লেখ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পরপরই সচিবালয়ে কিছু ব্যক্তি ও কর্মকর্তার সমন্বয়ে ডিসি নিয়োগের তালিকা তৈরি করা হয়, যেখানে ‘সমন্বয়ক পরিচয়ধারী’ কিছু ব্যক্তির প্রভাব ছিল বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রক্রিয়ায় যুগ্ম সচিব কেএম আলী আজম এবং গাজী সালাউদ্দীন তানভীরের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গাজী সালাউদ্দীন তানভীর বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে সমন্বয়ক পরিচয়ে যুক্ত ছিলেন এবং পরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও আসীন হন। এসব নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের পেছনে কারা ভূমিকা রেখেছে—এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাশেদ খান অভিযোগ করেন, ওই সময় প্রশাসনিক নিয়োগ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নিয়ে ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল দুদক চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে যান হাসনাত ও সারজিস। তবে তারা বিষয়টি গোপনীয় হিসেবে উপস্থাপন করেন বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ওই সময় দুদকের তদন্ত ও আদালতের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গাজী সালাউদ্দীন তানভীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয় এবং পরে আদালত তাকে দায়মুক্তি দেয়।
রাশেদ খানের মতে, এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি সুপরিকল্পিত কাঠামোর ভেতরে প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার ও দায়মুক্তির বিষয়টি সাজানো হয়েছিল।
তবে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম ব্যক্তিগতভাবে দুর্নীতি বা তদবির বাণিজ্যে যুক্ত ছিলেন—এমন অভিযোগ তিনি করেননি; বরং তাদের ঘিরে গড়ে ওঠা নেটওয়ার্ক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।
সবশেষে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনের আলোকে এসব বিষয় নতুন করে তদন্ত করা উচিত এবং পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
Leave a Reply