মোঃ মোনাব্বেরুল হক ,নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীর জলঢাকায় ব্যাটারিচালিত ভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে কিশোর ভ্যানচালক মীমুনুর রহমান ওরফে মহাবীর (১৪) কে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। দীর্ঘ প্রায় তিন মাস পর এ হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা তৌহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে জলঢাকা থানা পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ মার্চ রাতে। ওই দিন জলঢাকা উপজেলার কাঠালী ইউনিয়নের উত্তর দেশীবাই মাঝাপাড়া ক্যানেলের পাশে মীমুনুর রহমানকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা তার ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর দীর্ঘ তদন্ত, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা এবং গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে পুলিশ ধীরে ধীরে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে গত ২৩ জুন রাতে একই এলাকায় আরেকটি ভ্যান ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় এক ভ্যানচালকের নাকে চেতনানাশক স্প্রে করে ভ্যানটি নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তৌহিদুল ইসলাম ও সেলিম হোসেন নামে দুজনকে হাতেনাতে আটক করে। তবে মূল পরিকল্পনাকারী তখন কৌশলে পালিয়ে যায়।
আটককৃত তৌহিদুল ইসলামকে থানায় এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য-প্রযুক্তির বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে যে, ২৭ মার্চ রাতে সে ও তার সহযোগীরা মিলে কিশোর ভ্যানচালক মীমুনুর রহমানকে হত্যা করে ভ্যানটি ছিনতাই করেছিল।
পরে আদালতে হাজির করা হলে তৌহিদুল ইসলাম স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, এত বড় নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় সে মাত্র ১,০০০ (এক হাজার) টাকা লাভ করেছিল।
এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তৌহিদুল ইসলামকে রিমান্ডে নিয়ে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও কিশোর ভ্যানচালকের নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
Leave a Reply