নিজস্ব প্রতিবেদক, জলঢাকা:
তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার দাবিতে আজ সকালে তিস্তা অববাহিকাজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচি পালিত হয়েছে। “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি” ও স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণের উদ্যোগে নদীপাড়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজারো কৃষক, মৎস্যজীবী, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্ত নদী তিস্তা নদী নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামসহ বিস্তৃত অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও জীবিকার প্রধান ভরসা। তবে দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং বর্ষায় অতিরিক্ত পানির কারণে এই অঞ্চলটি একদিকে বন্যা, অন্যদিকে খরার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। ফলে নদীপাড়ের কৃষকরা একদিকে ফসল হারাচ্ছেন, অন্যদিকে নদীভাঙনে বসতভিটা ও আবাদি জমি বিলীন হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, উজান থেকে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, নদী ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের দুর্বলতা এবং সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে তিস্তা অববাহিকায় সংকট আরও প্রকট হয়েছে। এর ফলে লক্ষাধিক একর জমি সেচের অভাবে অনাবাদি থাকছে, কৃষি উৎপাদন কমছে এবং মৎস্য সম্পদও হ্রাস পাচ্ছে।
তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, দ্রুত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনার দৃশ্যমান কাজ শুরু করতে হবে। বিশেষ করে নদী খনন বা ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের জন্য জলাধার বা রিজার্ভার নির্মাণ, নদীভাঙন রোধে টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং একটি সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।
কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন নীলফামারী জেলার চারটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা—
মো. আবদুস সাত্তার — নীলফামারী-১ (ডোমার ও ডিমলা উপজেলা) আসনের সংসদ সদস্য
অ্যাডভোকেট আল ফারুক আবদুল লতীফ — নীলফামারী-২ (নীলফামারী সদর উপজেলা) আসনের সংসদ সদস্য
মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী — নীলফামারী-৩ (জলঢাকা উপজেলা) আসনের সংসদ সদস্য
হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম — নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা) আসনের সংসদ সদস্য
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলা কর্মপরিষদের শূরা সদস্য অধ্যাপক ছাদের হোসেন, মাওলানা আনতাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের আমির ও দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে আয়োজকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অচিরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এ অনুমোদন ও বাস্তবায়ন শুরু না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
Leave a Reply