তিস্তা নিউজ ডেস্ক
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের ভার নিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনার কাজ শুরু করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার আড়াই মাসে কিছুটা অগ্রগতি হলেও দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনও সন্তোষজনক নয়। পূর্ববর্তী প্রশাসনের রেখে যাওয়া আর্থিক ও কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়, আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নির্দেশনা
মাঠ প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জনগণের ন্যায্য অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং বাল্যবিবাহ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়।
নির্বাচন ও প্রশাসনিক প্রসঙ্গ
তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়। প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিলে নির্বাচনী ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এ অভিজ্ঞতা অতীতেও দেখা গেছে। তাই মাঠ প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দুর্নীতি ও প্রশাসনিক নীতি
সরকারপ্রধান জানান, দুর্নীতির বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। সততা, মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই পদোন্নতি ও বদলি হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থে পেশাদারিত্ব বিসর্জন দিলে তা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হবে এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
তিনি আরও বলেন, জনপ্রশাসনের যেকোনো পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে জেলা প্রশাসকদের। তারা জনগণ ও সরকারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন।
উন্নয়ন ও পূর্ববর্তী প্রশাসন নিয়ে মন্তব্য
তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে বিচার বিভাগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা দুর্বল করা হয়েছিল। দেশকে আমদানি নির্ভর অর্থনীতিতে পরিণত করা হয়েছিল, যা এখনো প্রভাব ফেলছে। এসব সমস্যা মোকাবিলা করেই সরকার একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ডিসি সম্মেলনের কার্যক্রম
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন শেষ হবে আগামী ৬ মে। এতে আটটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকরা অংশ নিচ্ছেন।
এবারের সম্মেলনে মাঠ প্রশাসন থেকে পাওয়া ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৯৮টি প্রস্তাব আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
সকালেই সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পৌঁছান সরকারপ্রধান, যেখানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।
Leave a Reply