ক্রীড়া ডেস্ক
বয়সের ক্যালেন্ডারে ৩৯ পেরিয়ে গেলেও লিওনেল মেসির ফুটবল জাদু এখনো থামেনি। যে বয়সে বেশিরভাগ ফুটবলার অবসরের কথা ভাবেন, সেই বয়সেই আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার। তাই স্বাভাবিকভাবেই এখন বড় প্রশ্ন—এটাই কি মেসির শেষ বিশ্বকাপ, নাকি ২০৩০ সালের আসরেও আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখা যাবে তাকে?
এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে পারেননি আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। বরং মেসির অসাধারণ ধারাবাহিকতার প্রশংসা করে তিনি জানিয়েছেন, মেসি এখনো এমন কিছু করে দেখাচ্ছেন, যা অনেকের কল্পনারও বাইরে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির পথচলা কখনোই সহজ ছিল না। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পর অনেকেই মনে করেছিলেন, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছেন ৩১ বছর বয়সি এই তারকা। কিন্তু মেসি প্রমাণ করেছেন, বয়স তার জন্য কেবল একটি সংখ্যা।
চার বছর পর কাতার বিশ্বকাপে নতুন রূপে হাজির হন তিনি। ৩৫ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতে নেন। সেই সাফল্যের পর অনেকের ধারণা ছিল, এটাই হবে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত অধ্যায়। কিন্তু মেসি থামেননি।
নিজেকে প্রস্তুত করেছেন ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য এবং এই আসরেও দেখিয়েছেন কেন তাকে ইতিহাসের সেরাদের একজন বলা হয়। দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিয়ে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলে এনেছেন তিনি। সেমিফাইনাল পর্যন্ত তার পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া—গোল ও অ্যাসিস্টে দলের সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন এই অধিনায়ক। একই সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বলের দৌড়েও রয়েছেন এগিয়ে।
মেসির বর্তমান ফর্মই নতুন করে উসকে দিয়েছে ২০৩০ বিশ্বকাপে তার সম্ভাব্য অংশগ্রহণের আলোচনা। যদিও পরবর্তী বিশ্বকাপে তার বয়স হবে ৪৩ বছর, তবুও মেসির ক্ষেত্রে সাধারণ হিসাব অনেক সময়ই ব্যতিক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ ফিটনেস, অভিজ্ঞতা এবং মাঠে প্রভাবের দিক থেকে তিনি এখনো অন্যদের থেকে আলাদা।
তবে আরেকটি পক্ষ মনে করছে, এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালই হতে পারে মেসির শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ের পর তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেও আলোচনা চলছে।
মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, “এটা কি মেসির শেষ বিশ্বকাপ? আমি কীভাবে জানব! আমার কোনো ধারণা নেই। আমরা এ বিষয়ে কথা বলিনি। সে কখনো আমাদের অবাক করা বন্ধ করে না। ৩৯ বছর বয়সে ফাইনালে পৌঁছানোই অবিশ্বাস্য একটি ব্যাপার।”
আর্জেন্টিনা কোচ আরও বলেন, মেসির কীর্তির মূল্যায়ন করতে হবে তার পুরো ক্যারিয়ারের প্রেক্ষাপটে। কয়েক বছর আগে যেসব অর্জন অসম্ভব মনে হয়েছিল, মেসি সেগুলো বাস্তবে পরিণত করেছেন। তার মতে, বিশ্ব ফুটবলে মেসি এখনো একটি অনুপ্রেরণার নাম।
তিনি বলেন, “এই পর্যায়ে পৌঁছানো এবং এত বছর ধরে একই মান ধরে রাখা সহজ নয়। আমরা অবশ্যই ফাইনাল জিততে চাই। তবে ফল যাই হোক, মেসি সবার জন্য একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।”
রোববার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। আর্জেন্টিনার লক্ষ্য থাকবে আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তোলা, আর মেসির সামনে থাকবে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে আরও একটি ইতিহাস যোগ করার সুযোগ।
শেষ পর্যন্ত মেসি ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলবেন কি না, তার উত্তর সময়ই দেবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—৩৯ বছর বয়সেও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মেসির উপস্থিতিই প্রমাণ করে, কিংবদন্তিদের জন্য বয়সের হিসাব অনেক সময় আলাদা হয়।
Leave a Reply