1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tista24 :
September 5, 2026, 12:00 pm

যে ছবি নিয়ে তোলপাড়, ফাইনালের আগে ব্যাখ্যা দিলেন মেসি

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, July 18, 2026
  • 33 Time View

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালের আগে ফুটবল বিশ্বে নতুন করে আলোচনায় এসেছে লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামালের সেই বহু পুরোনো ভাইরাল ছবি। প্রায় দুই দশক আগে তোলা একটি মুহূর্ত আজ যেন ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসময় শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়ে গোসল করিয়েছিলেন তরুণ মেসি, আর এখন সেই দুজনই বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায়।

২০০৭ সালে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামে স্থানীয় সংবাদপত্র স্পোর্ট এবং ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোশুটের আয়োজন করা হয়। সেখানেই মাত্র কয়েক মাস বয়সী লামিন ইয়ামালকে কোলে নিয়ে ছবি তোলেন তৎকালীন বার্সেলোনা তারকা লিওনেল মেসি। সেই সময় ছবিটি তেমন আলোচনায় না এলেও, ইয়ামাল বিশ্ব ফুটবলে নিজের প্রতিভার ছাপ রাখার পর এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে যায়।

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে শুক্রবার (১৭ জুলাই) নিউইয়র্কে ফিফার ফ্যানাটিকস ফেস্ট-এ অংশ নিয়ে প্রথমবারের মতো এই ছবি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন মেসি। তিনি বলেন, “ওই ছবিটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। তখন সে ছিল একেবারে ছোট্ট শিশু, আর আজ আমরা দুজনই বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে যাচ্ছি। সময় কত দ্রুত বদলে যায়, এটা ভাবতেই অবাক লাগে।”

১৮ বছর আগের সেই মুহূর্ত স্মরণ করে মেসি বলেন, তিনি কখনোই কল্পনা করেননি যে ছবির সেই শিশুই একদিন বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ফুটবলার হয়ে উঠবে। তার মতে, ইয়ামালের উত্থান শুধু স্পেনের জন্য নয়, পুরো ফুটবল বিশ্বের জন্যই দারুণ একটি ঘটনা।

১৯ বছর বয়সী ইয়ামালের বর্তমান পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেন, “সে এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তার সামনে দীর্ঘ ক্যারিয়ার পড়ে আছে। আমি চাই সে আরও অনেক সাফল্য অর্জন করুক। কারণ তার সাফল্য মানে বার্সেলোনারও সাফল্য। তবে ফাইনালে আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব যেন সে নিজের সেরা খেলাটা খেলতে না পারে।”

মেসি আরও যোগ করেন, “শুধু ইয়ামাল নয়, স্পেন একটি অসাধারণ দল। তাদের দলে অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছে। তবে আমাদেরও নিজেদের শক্তি আছে। আমরা জানি কীভাবে কঠিন ম্যাচ খেলতে হয় এবং শিরোপা জয়ের জন্য নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেব।”

অন্যদিকে, লামিন ইয়ামালও অতীতে একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, মেসিই তার শৈশবের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। বার্সেলোনার একাডেমি লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা ইয়ামাল ছোটবেলা থেকেই মেসির খেলা দেখে বড় হয়েছেন। তাই বিশ্বকাপের ফাইনালে নিজের আদর্শের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগকে তিনি ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।

এদিকে স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনোও ভাইরাল সেই ছবি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “প্রথমবার ছবিটি দেখে আমার মনে হয়েছিল এটি হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। পরে জানতে পারি এটি বাস্তব। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য আরেক তারকার এমন একটি ছবি সত্যিই অবিশ্বাস্য। আশা করি এই দুই ফুটবলারের লড়াইয়ে দর্শকরা একটি অসাধারণ ফাইনাল উপভোগ করবেন।”

 

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মেসি ও ইয়ামালের এই গল্প কেবল একটি ছবির গল্প নয়; এটি দুই প্রজন্মের প্রতীকী সংযোগ। একদিকে ক্যারিয়ারের শেষভাগে থাকা বিশ্বজয়ী কিংবদন্তি, অন্যদিকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সুপারস্টার। সেই কারণেই বিশ্বকাপের এই ফাইনাল শুধু দুটি দলের লড়াই নয়, বরং ফুটবলের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের এক ঐতিহাসিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

 

এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের চোখ সেই মহারণের দিকে। কোটি কোটি সমর্থক অপেক্ষা করছেন—শেষ হাসি হাসবেন অভিজ্ঞ লিওনেল মেসি, নাকি নতুন যুগের প্রতীক লামিন ইয়ামাল ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে লিখবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Jaldhaka IT Park
Theme Customized By LiveTV