ক্রীড়া ডেস্ক
গত অক্টোবরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনে তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া-এর সরাসরি হস্তক্ষেপ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের পছন্দের প্রার্থীকে জেতাতে কাউন্সিলরদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিলেন।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, সেই বিতর্কিত হস্তক্ষেপের জেরেই আজ (৭ এপ্রিল) বিসিবির সভাপতির চেয়ার হারাতে হয়েছে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল-কে।
প্রশ্নবিদ্ধ এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকার ৫০টি ক্লাব, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার মনোনয়নবঞ্চিত একটি বড় অংশ, পাশাপাশি সাবেক ক্রিকেটার, সার্ভিসেস ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ক্যাটাগরি-৩ থেকে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ-এ। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ মার্চ সাবেক বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান-কে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটি গত ৫ এপ্রিল তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশও করে। তারা বিসিবির নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাব দেয়।
এরপর তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এ পাঠানো হলে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আজ (৭ এপ্রিল) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বিসিবির বিদ্যমান কমিটি ভেঙে দেয়। একই সঙ্গে তামিম ইকবাল-এর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
নতুন কমিটি ঘোষণার আগে ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তা আমিনুল এহসান জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, শেরাটন হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আসিফ মাহমুদ এবং সাখাওয়াত হোসেন ভোটারদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দিতে চাপ দেন।
এছাড়া তদন্তে আরও উঠে এসেছে, আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজেও একটি পক্ষ হিসেবে ১০ জন ক্রিকেটারকে মনোনয়ন দিয়ে সুবিধা নিয়েছিলেন। ফলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটিকে অনিয়মপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ হিসেবে দেখেছে তদন্ত কমিটি।
ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে আইসিসিতে পাঠানো হয়েছে। তাদের আশা, নির্বাচনে সংঘটিত অনিয়মগুলো বিবেচনায় নিয়ে আইসিসি নতুন গঠিত কমিটিকে অনুমোদন দেবে।
Leave a Reply