ডেস্ক রিপোর্ট:
আহমেদাবাদের Narendra Modi Stadium—দর্শক ধারণক্ষমতা এক লাখ ৩২ হাজার। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ক্রিকেট ভেন্যুতে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্বাগতিক ভারতকে হারিয়ে ভরা গ্যালারির গর্জন স্তব্ধ করে দিয়েছিল Pat Cummins–এর অস্ট্রেলিয়া। নীল জনসমুদ্রকে তারা মুহূর্তেই বিষাদের দরিয়ায় পরিণত করেছিল।
তিন বছর পর সেই একই ভেন্যুতে আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চ। এবার India national cricket team–এর প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ারই পড়শি New Zealand national cricket team। স্বাগতিকরা কাগজে-কলমে ফেভারিট হলেও, প্রায় দেড়শ কোটি ভারতীয় সমর্থকের স্বপ্ন ভেঙে গ্যালারি স্তব্ধ করে শিরোপা উৎসবের স্বপ্ন দেখছেন কিউই অধিনায়ক Mitchell Santner।
আজকের ফাইনাল দুদলের সামনেই খুলে দিতে পারে নতুন ইতিহাসের দরজা। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাগতিক দল চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। একই সঙ্গে কোনো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি এবং কোনো দল দুইবারের বেশি ট্রফি জিততেও পারেনি। ভারত জিতলে এই তিনটি ক্ষেত্রেই তারা হবে প্রথম।
অন্যদিকে সাদা বলের বিশ্বকাপে কখনো শিরোপা না পাওয়া নিউজিল্যান্ডের সামনে প্রথম ট্রফি জয়ের সুযোগ। ২০১৫ ও ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২১ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফাইনালে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল কিউইদের। তবে এবারের টুর্নামেন্টে তারা আবারও হিসাব উলটে দিয়েছে। সেমিফাইনালে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা South Africa national cricket team–কে নয় উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড।
ফেভারিট না হয়েও তাদের নিয়ে সমীহ কম নেই ভারতের শিবিরে। কারণ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আগের তিন ম্যাচেই হেরেছে ভারত। সেমিফাইনালে ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করা Finn Allen স্বাগতিকদের ভাবাচ্ছেন ঠিকই, তবে ইতিহাসের চাপটাই যেন আরও বড়।
ঘরের মাঠে তুমুল প্রত্যাশার চাপ সামলানোই হবে ভারতের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। ব্যাটিংয়ে Abhishek Sharma এবং বোলিংয়ে Varun Chakravarthy প্রত্যাশা অনুযায়ী না খেললেও দল হিসেবে নিজেদের গভীরতা দেখিয়েছে ভারত। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে এক ওভারেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন Jasprit Bumrah।
ব্যাট হাতে শেষ দুই ম্যাচে যথাক্রমে ৯৭* ও ৮৯ রান করে দলের ভরসা হয়ে উঠেছেন Sanju Samson। ফাইনালের আগে স্যামসনের লক্ষ্য স্পষ্ট—দলকে ট্রফি এনে দেওয়া।
“সত্যি বলতে সেঞ্চুরি নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। আরেকটা বড় ইনিংস খেলতে পারলে এবং ভারতকে শিরোপা এনে দিতে পারলে সেটাই হবে সবচেয়ে বড় আনন্দ। শেষ ধাপটাই সব সময় সবচেয়ে কঠিন,” বলেছেন তিনি।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক স্যান্টনারও লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন।
“আমরা যে ফেভারিট নই, সেটা সবাই জানে। তবে কিছু হৃদয় ভেঙে যদি এই ট্রফিটা একবার উঁচিয়ে ধরতে পারি, সেটা দারুণ হবে। গ্যালারির গর্জন থামিয়ে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
লাল ও কালো মাটির মিশ্রণে তৈরি ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে হবে ফাইনাল। পেসারদের জন্যও কিছু সহায়তা থাকতে পারে। বৃষ্টির সম্ভাবনা তেমন নেই, তবে রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে। দুই দিন মিলিয়েও অন্তত ১০ ওভারের ম্যাচ সম্পন্ন করা না গেলে টুর্নামেন্টের প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী দুদলকেই যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে।
Leave a Reply