আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করা এবং বাংলাদেশের সমর্থনে পাকিস্তানের ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কটের ঘোষণায় টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এশিয়ার দুই শক্তিশালী দলের এমন অবস্থানের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন।
মাইকেল অ্যাথারটনের সঙ্গে স্কাই স্পোর্টসের একটি পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে নাসের হুসেইনের অভিযোগ, আইসিসি প্রভাবশালী বোর্ডগুলোর প্রতি, বিশেষ করে ভারতের ক্ষেত্রে, পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। তার মতে, এই দ্বৈত মানদণ্ড বিশ্ব ক্রিকেটে ভারসাম্যহীনতা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক সংকট থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স হঠাৎ করেই বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেয়। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপের জন্য ভারতে সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানায় এবং শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকেই সরে দাঁড়ায়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন পাকিস্তান ঘোষণা দেয় যে তারা গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ বয়কট করবে। এতে করে বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে পুরো আয়োজনই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। এই প্রেক্ষাপটে আইসিসির অবস্থানের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাসের হুসেইন বলেন, যদি কোনো বড় বোর্ড—বিশেষ করে ভারত—সরকারি নির্দেশ বা নিরাপত্তার অজুহাতে কোনো দেশে খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানাত, তাহলে আইসিসি কি একই রকম কঠোর অবস্থান নিত?
নাসেরের ভাষায়, “যদি টুর্নামেন্টের এক মাস আগে ভারত বলত তাদের সরকার কোনো দেশে খেলতে অনুমতি দিচ্ছে না, তাহলে কি আইসিসি বলত—নিয়ম তো নিয়মই, তোমরা বাদ?” তার মতে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ভারতের মতোই সমানভাবে বিবেচনা করা উচিত।
বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করে নাসের হুসেইন বলেন, খেলোয়াড় মোস্তাফিজুর রহমানের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাকিস্তান যেভাবে বাংলাদেশের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে, সেটিও তিনি প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। নাসেরের মতে, এ ধরনের রাজনৈতিক চাপ ও অর্থনৈতিক আধিপত্য ক্রিকেটের মূল চেতনাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে এবং ভবিষ্যতের জন্য তা অশনিসংকেত।
Leave a Reply