তিস্তা নিউজ ডেস্ক:
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ওয়ানডেতে জো রুট ও হ্যারি ব্রুকের দুর্দান্ত শতকে ভর করে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। ৩৫৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা থামে ৩০৪ রানে, ফলে ৫৩ রানের জয় নিয়ে সিরিজে ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে সফরকারীরা।
ইংল্যান্ডের ইনিংসের মূল ভিত্তি ছিল জো রুট ও হ্যারি ব্রুকের ১৯১ রানের বিধ্বংসী জুটি। মাত্র ১১৩ বলেই এই জুটি গড়ে ওঠে, যা ম্যাচের গতিপথ পুরোপুরি বদলে দেয়। বিশেষ করে হ্যারি ব্রুকের ব্যাটিং ছিল চোখ ধাঁধানো। তিনি ৬৬ বলে ১৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৯টি ছক্কা। অবিশ্বাস্যভাবে, শেষ ৪০ বলেই ব্রুক একাই করেন ১০১ রান, যা শ্রীলঙ্কান বোলারদের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। শেষ পাঁচ ওভারে ইংল্যান্ড তোলে ৮৮ রান, যা বড় সংগ্রহ গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে, জো রুটের ব্যাটিং ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের কিন্তু সমান কার্যকর। তিনি খেলেন ১১১ রানের অপরাজিত ইনিংস, যেখানে ধৈর্য, নিয়ন্ত্রিত স্ট্রোক ও অভিজ্ঞতার নিখুঁত প্রতিফলন দেখা যায়। ১০৮ বলে খেলা তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও একটি ছক্কা। এর আগে জ্যাকব বেথেলের সঙ্গে ১২৬ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন রুট। বেথেল ৬৫ রান করে আউট হলেও মিডল অর্ডারে ইংল্যান্ডের ইনিংসের ভিত মজবুত করে দেন।
৩৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল শ্রীলঙ্কা। ওপেনার পাঠুম নিশাঙ্কা মাত্র ২৫ বলে ফিফটি করে দ্রুত রান তুলতে থাকেন। তবে শুরুতেই নিয়মিত উইকেট হারানোয় চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। মাঝের ওভারে পাভান রথনায়েকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি শ্রীলঙ্কাকে কিছুটা আশার আলো দেখায়। তিনি ১১৫ বলে ১২১ রান করেন, যেখানে ছিল ১২টি চার ও একটি ছক্কা। কিন্তু প্রয়োজনীয় রানরেট ক্রমেই বাড়তে থাকায় এবং অপর প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়ায় বড় কোনো জুটি গড়ে ওঠেনি।
শেষ পর্যন্ত ৪৬.৪ ওভারে ৩০৪ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। এর ফলে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১৯ রানে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে পাঁচ উইকেটে জেতা ইংল্যান্ড তৃতীয় ম্যাচ জিতে ডেডলক ভেঙে সিরিজ নিজেদের করে নেয়। ২০২৩ সালের মার্চে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর এই প্রথমবার বিদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড।
অন্যদিকে, ২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে হারের পর এই প্রথমবার নিজেদের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ হারল শ্রীলঙ্কা—যা তাদের জন্য নিঃসন্দেহে হতাশার।
Leave a Reply