1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tista24 :
September 4, 2026, 5:38 am

দেরিতে পৌঁছানোয় নিজ এলাকার বন্যার্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, July 18, 2026
  • 31 Time View

চকরিয়া   প্রতিনিধি

কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দুর্গত মানুষের কাছে দেরিতে পৌঁছানোর জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, “আঁই দেরি গরি আইস্সিদে, আঁরে মাফ গরি দিয়্য” (আমি দেরি করে এসেছি, আমাকে ক্ষমা করে দিন)। তার এই বক্তব্যে উপস্থিত বন্যাদুর্গতদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

শুক্র ও শনিবার (১৭ ও ১৮ জুলাই) চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী, কাকারা, লক্ষ্যারচর, বরইতলী, পেকুয়া এবং মাতামুহুরী উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও কৃষিজমির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

স্থানীয়দের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বন্যার শুরুতেই দুর্গত মানুষের পাশে থাকতে চাইলেও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে বিদেশ সফরে থাকায় তা সম্ভব হয়নি। দেশে ফেরার পর জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে অংশ নিতে হওয়ায় এলাকায় পৌঁছাতে আরও কিছুটা সময় লেগেছে। এজন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “আমি দেরিতে এসেছি, কিন্তু সরকার আপনাদের পাশে ছিল। আমি না থাকলেও বিজিবি, পুলিশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং দলীয় নেতাকর্মীরা দুর্গত মানুষের সহায়তায় কাজ চালিয়ে গেছে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, বরইতলী-পহরচাঁদাসহ মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো প্রায় প্রতিবছরই বন্যার কবলে পড়ে। তাই শুধু ত্রাণ বিতরণ করে সমস্যার সমাধান হবে না; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নদী ও খাল পুনঃখনন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এ সময় তাদের দীর্ঘদিনের দাবি তুলে ধরে বলেন, বারবার ত্রাণ নয়, তারা স্থায়ীভাবে বন্যা থেকে মুক্তি চান। বিশেষ করে মাতামুহুরী নদীতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন এবং কাকারা এলাকার বাইশ্যাছড়া খাল পুনঃখননের দাবি জানান তারা। তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়গুলো সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপনের আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, “আমরা জনগণের সরকার। যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত কোনো পরিবারকে একা ফেলে রাখা হবে না। পুনর্বাসন, অবকাঠামো সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য সরকার পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেবে।”

দেশের সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে। রাস্তাঘাট, সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, মৎস্যখামার ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

এদিকে শনিবার সকালে পেকুয়া উপজেলায় শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি পরিবারের মাঝে ঘর নির্মাণ সহায়তা ও প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তিনি সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যোগে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Jaldhaka IT Park
Theme Customized By LiveTV