1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tista24 :
August 30, 2026, 11:59 am

চীনের সঙ্গে জিওপলিটিক্যাল ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে: মির্জা ফখরুল

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, July 18, 2026
  • 33 Time View

তিস্তা টিভি ডেস্ক

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিবর্তিত বাস্তবতায় পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে চীনের সঙ্গে বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চীন সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক শুধু বাণিজ্য বা উন্নয়ন সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি দাবি করেন, বিএনপির সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়েও সেই সম্পর্ক বজায় ছিল।

তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। তবে বিএনপি শুধু চীনের সঙ্গেই নয়, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য বৈশ্বিক শক্তির সঙ্গেও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তার ভাষায়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হওয়া উচিত জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক এবং বহুমুখী অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত।

প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, স্মার্ট প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ, শিল্পায়ন এবং কারিগরি শিক্ষায় চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এসব খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের আধুনিক কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারসাম্য আনা এবং আমদানি-রপ্তানি আরও সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আলোচনা সভায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও উন্নয়ন সহযোগিতার ভিত্তিতে ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে উচ্চগতির (হাইস্পিড) রেল প্রযুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে চীন আগ্রহী। সম্ভাব্য প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে সংযুক্ত করার বিষয়েও আগ্রহের কথা জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে ইয়াও ওয়েন বলেন, এই সমস্যার টেকসই সমাধানে চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে যাবে এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক গত কয়েক দশকে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কূটনীতিক এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Jaldhaka IT Park
Theme Customized By LiveTV