ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের হতাশা পেছনে ফেলে আবারও ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ততায় ফিরতে প্রস্তুতি শুরু করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়র। জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও ক্লাব ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই নিজের ফিটনেস ফিরে পাওয়ার লড়াই শুরু করেছেন ১০ নম্বর জার্সিধারী এই ফরোয়ার্ড।
দীর্ঘ বিরতির পর নেইমার ফিরেছেন ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসের সিটি রেই পেলে ট্রেনিং সেন্টারে। তবে প্রত্যাবর্তনের প্রথম দিনেই সতীর্থদের সঙ্গে মাঠের অনুশীলনে দেখা যায়নি তাকে। বরং দিনটি কেটেছে শারীরিক প্রস্তুতি, জিম সেশন এবং বিভিন্ন ফিটনেস পরীক্ষার মধ্য দিয়ে।
সান্তোস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেইমারের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নের জন্য ফিজিওলজিক্যাল ল্যাবে বেশ কিছু পরীক্ষা করা হয়েছে। এরপর ব্যক্তিগত অনুশীলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে মাঠের প্রস্তুতিতে ফিরবেন তিনি। চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকা এই তারকার জন্য পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
অবনমনের শঙ্কায় থাকা সান্তোসের জন্য নেইমারের প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির খবর। ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সাম্প্রতিক সময়ে কঠিন সময় পার করছে ক্লাবটি। সর্বশেষ ম্যাচে বোটাফোগোর বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে পয়েন্ট হারিয়েছে সান্তোস। আলভারো বারিয়ালের গোলে সমতায় ফিরলেও শেষ মুহূর্তের গোলে পরাজয় এড়াতে পারেনি দলটি।
এই হারের পর অবনমন অঞ্চলের আশপাশে অবস্থান করছে সান্তোস। এমন সংকটময় সময়ে দলের সবচেয়ে বড় তারকার ফেরা ক্লাবের জন্য নতুন আশা তৈরি করেছে। যদিও নেইমার কবে থেকে পুরোপুরি ম্যাচ খেলার মতো প্রস্তুত হবেন, সেটি নির্ভর করছে তার ফিটনেসের ওপর।
সান্তোসের হয়ে সর্বশেষ গত ১৭ মে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। করিন্থিয়ান্সের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ৩-০ গোলে হারের পর থেকেই ক্লাব ফুটবলের বাইরে ছিলেন তিনি। এরপর জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেন এবং দুই ম্যাচে মাঠে নেমে পেনাল্টি থেকে একটি গোল করেন।
ক্লাব পর্যায়ে দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকলেও ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের গুরুত্ব এখনো অটুট। ৮০ গোল নিয়ে তিনি ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। কিংবদন্তি পেলের রেকর্ড পেছনে ফেলে জাতীয় দলের হয়ে গোলের নতুন ইতিহাস গড়েছেন এই তারকা।
এদিকে, নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেও ক্লাব পর্যায়ে আরও কিছু সময় নিজের সেরাটা দিতে চান তিনি। নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসকে কঠিন সময় থেকে বের করে আনাও তার অন্যতম লক্ষ্য।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৫ জুলাই ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামে শাপেকোয়েনসের বিপক্ষে ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরতে পারেন নেইমার। তবে তার মাঠে ফেরার আগে সান্তোস সমর্থকদের সবচেয়ে বড় অপেক্ষা—পুরোনো সেই ছন্দের নেইমারকে আবার দেখা যাবে কি না।
Leave a Reply