1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tista24 :
June 21, 2026, 6:14 pm

তেল বাজারেই নির্ধারিত হবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির ভবিষ্যৎ

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, June 21, 2026
  • 17 Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি ও নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত সমঝোতা কার্যকর হলে ইরানের তেল ও জ্বালানি খাতই হবে তার সফলতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষাক্ষেত্র বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর ইরানের জ্বালানি শিল্প শুধু দেশটির অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের সংবাদমাধ্যম শানাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকনেজাদ জানান, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য দেশটি ইতোমধ্যে শতাধিক প্রকল্প প্রস্তুত রেখেছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে তেল ও গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়ন, পরিশোধনাগার আধুনিকায়ন, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন। তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চুক্তিও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

তেলমন্ত্রীর মতে, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের জ্বালানি খাত তার পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারেনি। তবে নতুন কোনো সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে বিদেশি প্রযুক্তি, মূলধন ও দক্ষতা প্রবাহের সুযোগ তৈরি হবে, যা উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রমাণিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ রয়েছে ইরানের। দেশটি ওপেকের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের উৎপাদন বৃদ্ধি বৈশ্বিক জ্বালানির দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরান তুলনামূলক দ্রুত তেল রপ্তানি বাড়ানোর সক্ষমতা রাখে, যা বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ যোগ করতে পারে।

পাকনেজাদ আরও বলেন, চুক্তি-পরবর্তী সময়ে ইরান শুধু তেল রপ্তানি বাড়ানোর দিকে নজর দেবে না, বরং জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে চায়। তার ভাষায়, ইরানের জ্বালানি খাত বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের উন্নতি হলে তা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতির ওপরও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে সম্ভাব্য যে কোনো চুক্তির কার্যকারিতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ইরানের তেল শিল্পকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Jaldhaka IT Park
Theme Customized By LiveTV