কাতারের প্রতিনিধিদল তেহরানে, ইরানে গেলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধানও
Reporter Name
Update Time :
Saturday, May 23, 2026
14 Time View
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে টানা সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের একটি প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। শান্তি আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, শুক্রবার (২২ মে) প্রতিনিধিদলটি ইরানের রাজধানীতে পৌঁছায়।
একই দিনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরও তেহরান সফরে গেছেন বলে খবর দিয়েছে আল-অ্যারাবিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই উচ্চপর্যায়ের সফরগুলো হচ্ছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলমান আলোচনায় “ইতিবাচক অগ্রগতির” ইঙ্গিত দেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) তিনি বলেন, কিছু ভালো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যদিও এখনই চূড়ান্ত আশাবাদ দেখানোর সময় আসেনি। আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো সতর্ক অবস্থানেরই ইঙ্গিত মিলেছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির এক কর্মকর্তা বলেন, এখনো কোনো সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি। যদিও কয়েকটি বিষয়ে দুই পক্ষের দূরত্ব কমেছে, তবু ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে নতুন করে সংঘাতের সূচনা হয়। ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় চালানো ওই হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এর পাল্টা জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অঞ্চলের একাধিক দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে।
সংঘাতের প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়, ব্যাহত হয় তেল সরবরাহ। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে বিমান চলাচলও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
যুদ্ধ শুরুর ৪০ দিনের মাথায় গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। পরে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন।
তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও হরমুজ প্রণালি ঘিরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, নৌ-অবরোধ এবং সামরিক তৎপরতা বন্ধ হয়নি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
Leave a Reply