জেলা প্রতিনিধি
চাঁদপুর সফরকে কেন্দ্র করে শনিবার (১৬ মে) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে স্বাগত জানাতে মহাসড়কজুড়ে জড়ো হন হাজারো নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা, কৃষক, নারী ও সাধারণ মানুষ। পুরো আয়োজনের নেতৃত্ব দেন মুরাদনগরের সংসদ সদস্য ও ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
চাঁদপুরে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন, নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে এই গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মহাসড়ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যানার, ফেস্টুন ও ফুল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় অবস্থান নেন। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতন ও বোনাস চালুর দাবিকে সামনে রেখে আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতারা ব্যানার হাতে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধারা “বীর উত্তম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় গর্বিত মুক্তিযোদ্ধারা” লেখা ব্যানার নিয়ে তাকে স্বাগত জানান। এ সময় তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও স্মরণ করেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারাও ব্যানার ও ফুল হাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পুরোহিতদের বোনাস ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে উলুধ্বনির মাধ্যমে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়।
নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হাজার হাজার নারী মহাসড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে কৃষকরাও ধানের শীষ, লাঙ্গল ও মাথাল নিয়ে কৃষি কার্ড ও কৃষকদের সহায়তা কার্যক্রমের জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ইলিয়টগঞ্জে পৌঁছালে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক শুভেচ্ছায় সিক্ত হন তারেক রহমান। একপর্যায়ে তিনি গাড়িবহর থামিয়ে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদের সঙ্গে মুসাফাহ করেন এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের সালাম ও শুভেচ্ছার জবাব দেন। এ সময় পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাজী শাহ আরেফীন ও গোলাম মহিউদ্দিন মোল্লা, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, আব্দুল আজিজ মোল্লা, নজরুল ইসলাম, ফারুক সরকার মজিব, ইদ্রিস, শাহ আলম সরকার এবং সদস্য সচিব মোল্লা মজিবুল হকসহ স্থানীয় নেতারা।
এছাড়া উপজেলা মহিলা দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি কাজী তাহমিনা আক্তার মিনা, যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাছির উদ্দীন আহমেদ, ছাত্রদলের আহ্বায়ক খায়রুল আহসানসহ আরও অনেকে।
এদিকে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদের ব্যতিক্রমী আয়োজন ও বিশাল জনসমাগম কুমিল্লাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, এ আয়োজন শুধু রাজনৈতিক সমাবেশ নয়, বরং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল।
Leave a Reply