তিস্তা টিভি ডেস্ক
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাগুলো নতুন প্রশ্নপত্রে পুনরায় নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিয়ে তার সাম্প্রতিক একটি ব্যক্তিগত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিলের ওপর আনীত সংশোধনী প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কয়েকটি জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। তবে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো বাতিল করা হবে না; সেগুলো নতুন প্রশ্নপত্রে পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে।
মন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি, উদ্বেগ ও মতামত সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত হয়েছে, চট্টগ্রাম বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, যুক্তিবিদ্যা ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের যেসব পরীক্ষা বিকল্প প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে, একই সময়ে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোও গ্রহণ করা হবে। এতে প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং সব পরীক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ফোনালাপ প্রসঙ্গেও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, তার বক্তব্য কাউকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়নি এবং কাউকে ছোট বা অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্যও ছিল না।
এহছানুল হক মিলন বলেন, “আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলিনি। তারপরও যদি আমার কথায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন বা আহত হয়ে থাকেন, তাহলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।”
উল্লেখ্য, সোমবার (১৩ জুলাই) রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ফোনালাপকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সেখানে শিক্ষামন্ত্রী বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে উল্লেখ করেছেন—এমন অভিযোগ ওঠে। অডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। বিভিন্ন স্থানে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন, প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, এমন মন্তব্য শিক্ষার্থী সমাজকে অসম্মান করেছে এবং এ বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষার নতুন সময়সূচি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বোর্ডের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
Leave a Reply