রামিসা হত্যাকাণ্ডে সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট চূড়ান্ত
Reporter Name
Update Time :
Sunday, May 24, 2026
17 Time View
তিস্তা টিভি প্রতিবেদক
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ঘটনায় দুজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
রোববার সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, ফরেনসিক তথ্য ও আসামিদের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই আদালতে তা জমা দেওয়া হবে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, নিহত রামিসা রাজধানীর পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১৯ মে সকালে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে দীর্ঘ সময় পার হলেও রামিসা স্কুলে না পৌঁছালে উদ্বিগ্ন হয়ে তাকে খুঁজতে শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা।
একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় স্বজনদের। পরে দরজায় বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। এসময় ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে কক্ষের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে উদ্ধার করা হয় তার বিচ্ছিন্ন মাথা।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না আক্তার দাবি করেন, তার স্বামী সোহেল রানা শিশুটিকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। পরে পরিচয় গোপন ও মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা শরীর থেকে আলাদা করে বালতিতে রাখা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল রানা। পরে অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার স্বপ্না আক্তার বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
Leave a Reply