তিস্তা নিউজ ডেস্ক
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহণের বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় বাসচালক আরমান খান (৩১)-এর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত আরমান খান রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিমখালখোলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আরব খানের ছেলে।
পরিবারের পক্ষ থেকে তার ফুফাতো ভাই জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব সঠিক নয়। অনেকেই দাবি করেছেন, চালক আরমান বাস থেকে নেমে গেলে হেলপার বাসটি চালাচ্ছিলেন। তবে বাস্তবে আরমান নিজেই বাসটি চালাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, “যদি আরমান বাস থেকে নেমে যেতেন, তাহলে তার লাশ বাসের ভেতরে পাওয়া যেত না।”
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সৌহার্দ্য পরিবহণের এক স্টাফও নিশ্চিত করেছেন, দুর্ঘটনার সময় বাসটি আরমানই চালাচ্ছিলেন এবং তার বৈধ পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস কুমার পালের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী, ৪ জন পুরুষ এবং ৮ জন শিশু রয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে ১৬ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আরও ৫টি মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এছাড়া গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ২টি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জানায়, দুর্ঘটনার পর বাসটি পদ্মা নদীর প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে পন্টুনের নিচে আটকে পড়ে। পরে উদ্ধারকারী জাহাজের সহায়তায় বাসটি ধীরে ধীরে উপরে তোলা হয়।
বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার সময় অন্তত ১১ জন যাত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বাস থেকে বের হয়ে প্রাণে বাঁচতে সক্ষম হন। ঘটনার পরপরই দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়।
Leave a Reply