তিস্তা নিউজ ডেস্ক
পবিত্র রমজান শেষের পথে, আর দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। দেশজুড়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মানুষ ব্যস্ত শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা এবং গ্রামের ফেরার প্রস্তুতিতে। তবে এই ব্যস্ততার ভিড়ে রমজানের শেষ মুহূর্তের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য যেন হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন জনপ্রিয় ইসলামি ব্যক্তিত্ব Shaykh Ahmadullah।
শায়খ আহমাদুল্লাহর বার্তা
ফেসবুকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাসে তিনি মুসলিম উম্মাহকে সচেতন করার আহ্বান জানান। শায়খ লিখেছেন,
“শপিং এবং গ্রামে ফেরার তাড়া যেন রমজানের শেষ মুহূর্তের তাৎপর্য ভুলিয়ে না দেয়।”
তিনি আরও সতর্ক করেছেন, রমজানের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেলেও আল্লাহর রহমতের দরজা এখনও খোলা। শেষ মুহূর্তগুলো অবহেলায় না কাটিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা, ইবাদত এবং নাজাত পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন।
শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা ও সতর্কতা
প্রতি বছর রমজানের শেষ দশকে কেনাকাটা এবং বাড়ি ফেরার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। বিপণিবিতানগুলোতে রাতভর চলে ভিড়, আর ট্রান্সপোর্ট টার্মিনালগুলোতে ঘরে ফেরা মানুষের চাপ দেখা দেয়। এর ফলে অনেক সময় লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান এবং শেষ দশকের নিভৃত ইবাদত অবহেলায় চলে যায়।
শায়খ আহমাদুল্লাহ মনে করিয়ে দিয়েছেন, ঈদের প্রস্তুতি নেওয়া ঠিক আছে, কিন্তু তা যেন রমজানের মূল উদ্দেশ্য—তাকওয়া অর্জন ও আল্লাহর সন্তুষ্টি—কে পিছনে না ফেলে।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া
শায়খের বার্তাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। নেটিজেনদের অনেকেই একমত পোষণ করেছেন। তারা বলছেন, ঈদের আনন্দ উদযাপনের চেয়েও বড় প্রস্তুতি হওয়া উচিত পরকালের জন্য এবং রমজানের শেষ রাতগুলোতে ইবাদতের সওয়াব হাসিলের।
রমজানের শেষ ১০ দিনের গুরুত্ব
ইসলামী বিধান অনুযায়ী রমজানের শেষ দশ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (স.) এই সময় ইবাদতে অধিক সচেষ্ট হতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের নির্দেশ দিতেন। আলেমরা বলেন, এই সময়ের একটুখানি অবহেলা ভবিষ্যতের পুণ্য এবং নাজাতের সুযোগকে কমিয়ে দিতে পারে।
সুপারিশ ও পরামর্শ
-
শেষ দশকে বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত ও দোয়া করা।
-
লাইলাতুল কদরের রাতগুলোতে ইবাদত এবং মোনাজাত বৃদ্ধি করা।
-
ঈদের কেনাকাটা ও ঘরে ফেরার ব্যস্ততা যতটা সম্ভব পরিকল্পিতভাবে করা।
-
সময় বের করে দরিদ্র ও অসহায়দের সহায়তা করা।
শায়খ আহমাদুল্লাহর বার্তা মনে করিয়ে দিচ্ছে, রমজানের শেষ মুহূর্তের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব কখনো যেন দৈনন্দিন ব্যস্ততায় হারিয়ে না যায়, এবং মুসলিম উম্মাহ তার পুণ্য অর্জনের সুযোগ সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারে।
Leave a Reply