জেলা প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠে নামছেন সেনাবাহিনীসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। একই সঙ্গে ভোটের মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন এক হাজার ৫১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। তারা ভোটগ্রহণের পরও আরও দুই দিন মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সেনাবাহিনী আগে থেকেই মাঠে রয়েছে। তবে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা ভোটের আগে ও পরে মোট সাত দিন দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা কমিশনকে জানিয়েছে, মাঠের অবস্থা ও দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং নির্বাচন আয়োজনের জন্য সহায়ক রয়েছে।
ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি এবং কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে মোট ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন। সেনাবাহিনীর সদস্য থাকবেন ১ লাখ ৩ হাজার। নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন, পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন, র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ জন এবং চৌকিদার ও দফাদার ৪৫ হাজার ৮২০ জন সদস্য নির্বাচনি দায়িত্বে থাকবেন।
পরিপত্রে আরও বলা হয়, সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। বিজিবি, র্যাব, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়ন জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবে। উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড মোতায়েন থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট সাত দিন মাঠে থাকবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
Leave a Reply