আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও নুরুল হক নূরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে আসন সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। রোববার রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকের পর এ সমঝোতা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বৈঠকে উভয় দলের নেতারা নির্বাচনী কৌশল, যুগপৎ আন্দোলনের ধারাবাহিকতা এবং আসন বণ্টন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, সমঝোতার অংশ হিসেবে পটুয়াখালী–৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর এবং ঝিনাইদহ–২ আসনে দলটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদ খানকে প্রার্থী হিসেবে ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, এই দুই প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের নিজস্ব প্রতীক ‘ট্রাক’ নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। ফলে তারা বিএনপির সমর্থন পেলেও দলীয় পরিচয় ও প্রতীক বজায় রেখেই ভোটের মাঠে থাকবেন।
এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে যুগপৎ আন্দোলনের সম্পর্ক রয়েছে। সেই রাজনৈতিক সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং রোববার রাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি আরও জানান, আলোচনার শুরুতে গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে মোট ১০টি আসনের দাবি জানানো হয়েছিল। এর জবাবে বিএনপি আপাতত দুটি আসনের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে এবং বাকি আসনগুলোর বিষয় পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
আবু হানিফ বলেন, সোমবার গণঅধিকার পরিষদের নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে আসন সমঝোতার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই দলটির আনুষ্ঠানিক অবস্থান গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানানো হবে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সমঝোতা আগামী নির্বাচনে বিরোধী জোটের কৌশল ও সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
Leave a Reply