নিজস্ব প্রতিনিধি:
শিক্ষার্থী ও জনতাবিদ্রোহের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকার পতিত হলে নির্বাহী আদেশে মুক্তি পান বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। তবে জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে ফিরতে পারেননি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই সংকটে অসুস্থ খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত দেখভালের দায়িত্ব নেন তারেক রহমানের স্ত্রী, চিকিৎসক ডা. জুবায়দা রহমান।
প্রায় দুই দশকের বিচ্ছেদের পর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে দেখতে ঢাকায় এসে উপস্থিত হন ডা. জুবায়দা রহমান। প্রায় ১৭ বছর পর তার ঢাকায় আগমন রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন মহল জল্পনা করে তিনি রাজনীতিতে আসছেন কি না, নাকি চিকিৎসা পেশায় ফিরে যাবেন—এ নিয়ে।
ঢাকায় দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান না করলেও পরবর্তীতে তিনি শাশুড়ি খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকার জন্য লন্ডনে ফিরে যান। তবে সম্প্রতি আবারও এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার দেখভাল ও পর্যবেক্ষণের জন্য ঢাকায় এসেছেন তিনি। এর ফলে ডা. জুবায়দার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, সিলেট অঞ্চলে ডা. জুবায়দার জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। তিনি রাজনীতিতে আসলে তাকে স্বাগত জানানো হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক পরিবারের সঙ্গে থাকার কারণে ডা. জুবায়দার রাজনৈতিক পরিপক্বতা রয়েছে, তাই রাজনীতিতে প্রবেশ তার জন্য কঠিন হবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডা. জুবায়দার রাজনীতিতে আগমন বিএনপির নৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করবে এবং দলের নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের শূন্যতা পূরণে সহায়ক হবে।
জনমতেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে আসার ঘোষণা দেননি ডা. জুবায়দা, তার পোশাক-পরিচ্ছদ ও ব্যবহারের ধরণ অনেকের কাছে খালেদা জিয়ার সাথে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, যদি তিনি রাজনীতিতে আসেন, দ্রুতই জনপ্রিয় নেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন।








Leave a Reply