নিজস্ব প্রতিনিধি,
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি অভিজ্ঞ মেডিকেল টিম বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা পরিচালনা করছে। শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় আগে থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। তবে এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বা ভেরি ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট পার্সন (VIP) ঘোষণা করেছে সরকার।
সোমবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়—বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১–এর ধারা ২(ক) অনুসারে বেগম খালেদা জিয়াকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করা হলো। এর ফলে এখন তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করবে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ)। সাধারণত রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়োজিত এই বাহিনী চিকিৎসাকেন্দ্রিক প্রয়োজন অনুসারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে পারবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। আদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন সময়ে সরকারের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যখন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ জনগণ—সবখানে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তাঁকে এসএসএফ–এর নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা কেবল নিরাপত্তাগত বিবেচনাই নয়, বরং তাঁর চিকিৎসা ও সার্বিক অবস্থার প্রতি সরকারের উচ্চমাত্রার গুরুত্ব প্রদর্শন করে।
উল্লেখযোগ্য যে, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে সেনা–সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে সাময়িকভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে এবার ঘোষণার প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন—খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সংকট এবং হাসপাতালে অবস্থানের কারণে এই সিদ্ধান্ত বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
সার্বিকভাবে, বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।








Leave a Reply