তিস্তা নিউজ ডেস্ক
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারের জ্বালানি নীতি ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, সরকারি দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কথা শুনলে মনে হয় বাংলাদেশ যেন তেলের ওপর ভাসছে। এই মন্তব্য তিনি সোমবার দুপুরে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে করেন।
জামায়াত আমির আরও বলেন, সরকারি দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বক্তব্য শুনলে মনে হয় দেশে সোনার নহর বয়ে যাচ্ছে। তবে বিরোধী দল যদি জ্বালানিসংকট নিয়ে কথা বলতে চায়, তবে সেই বিষয়ে নোটিশ আলোচনায় আসতে দেওয়া হয় না। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ভয় পাচ্ছে এবং এভাবে জনগণের কাছে সত্য প্রকাশ পেয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহন ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন থাকলেও সরকার দাবি করছে রিজার্ভ বেশি আছে, যা প্রকৃত সত্য আড়াল করার একটি চেষ্টা। সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে কথা বলতে গেলে নোটিশ আলোচনাতেই আসতে দেওয়া হয় না।
শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে এই মৌসুমে খামারিরা সেচের জন্য অপেক্ষা করছেন, কিন্তু পানি নেই। খোলা তেলও দেওয়া হচ্ছে না, কার্ড নিয়ে আসতে বলা হচ্ছে, যা কিনা বাস্তবে কার্যকর করা কঠিন। তিনি সতর্ক করেন, এভাবে চললে দেশ খাদ্যঘাটতিতে পড়বে।
জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় শিশুদের স্কুল বন্ধ করে তাদের ঘরে পাঠানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, করোনার সময় পড়াশোনা ব্যাহত হয়ে অনেক শিশু ড্রপআউট হয়ে গেছে এবং অনেকে বিপথে চলে গেছে। যদি একইভাবে সরকার চলতে থাকে, তবে জাতিকে অন্ধত্ব ও মূর্খতার চাদরে ঢেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করে বাংলাদেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ৫৪ বছরে দফায় দফায় যে ফ্যাসিবাদ জাতিকে এগিয়ে যেতে দেয়নি, তা চব্বিশের বিপ্লবীরা বঙ্গোপসাগরে, নালায়, নর্দমায় ছুঁড়ে মেরেছিলেন। এখন কারা এটাকে পুনরায় নর্দমা থেকে তুলে আনতে চায়।
তিনি সতর্ক করেন, এই প্রজন্ম প্রমাণ করেছে, তারা জেগে উঠলে মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর আন্দোলন করতে হবে না। তাদের বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্তই ফ্যাসিবাদীদের কলিজায় কাঁপন ধরিয়ে দেয়। শফিকুর রহমান বলেন, এই প্রজন্মের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট এবং বিরোধী দল তাদের সঙ্গে আছে।
Leave a Reply