তিস্তা ডেস্ক রিপোর্ট:
ঢাকার বায়ুদূষণ গত কয়েক বছর ধরে প্রতিনিয়তই বিশ্বজুড়ে শীর্ষস্থান দখল করছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মানদণ্ডে যখন বিশ্বের শহরগুলোর বায়ুর মান (AQI) মূল্যায়ন করা হয়, তখন রাজধানী প্রায়ই “খুব অস্বাস্থ্যকর” বা “খুব দূষিত” অবস্থায় থাকে। উদাহরণস্বরূপ, সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে ঢাকা সকালে ২৭৫-এর মতো উচ্চ AQI স্কোর করেছে, যা “খুব অস্বাস্থ্যকর” শ্লেকে পড়ে এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর সিংহভাগের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে অবস্থান করছে।
ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান সূক্ষ্ম কণার концентраশন PM2.5—যা মানুষের ফুসফুসে সহজেই প্রবেশ করে—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নিরাপদ সীমার তুলনায় বহু গুণ বেশি। সার্বিকভাবে ঢাকা ও সমগ্র বাংলাদেশে গড় PM2.5 মাত্রা WHO গাইডলাইনের তুলনায় ১৫ গুণেরও বেশি ছিল, এবং রাজধানী শহরের মধ্যে এটি অন্যান্য দেশের তুলনায় অন্যতম শীর্ষে রয়েছে।
এই দূষণের পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। যানবাহনের ধোঁয়া ও পুরোনো ডিজেল গাড়ির নির্গমন, চলমান নির্মাণ কাজ থেকে উৎপন্ন ধূলিকণা, শিল্প এলাকা ও ইটভাটার ধোঁয়া—এসব মিলিয়ে রাজধানীর বায়ুতে ক্ষতিকর গ্যাস ও কণার ঘনত্ব বাড়াচ্ছে। শুষ্ক শীতকালে বৃষ্টি না থাকায় এই দূষিত কণা স্থল ও বায়ুতে ধরে থাকে, ফলে ধোঁয়া-ধুলার স্তর আরও ঘন হয়ে ওঠে।
মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রতিক্রিয়া ভয়াবহ। শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ফুসফুসের ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ছে ব্যাপকভাবে। বিশেষত শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসতন্ত্রের রোগী এই দূষণের কারণে বেশি প্রভাবিত হচ্ছেন। WHO অনুমান করে যে বিশ্বব্যাপী বায়ুদূষণ প্রতি বছরে প্রায় সাত মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু ক্ষেত্রে অবদান রাখে—এটি শুধু ঢাকা নয়, সমগ্র মানবসাধারণের জন্য একটি বড় স্বাস্থ্য ঝুঁকি।
এ অবস্থার সমাধানে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন—যেমন পরিবেশ বান্ধব যানবাহন ব্যবহারের উৎসাহ, নির্মাণ ধূলা নিয়ন্ত্রণ, শিল্প নির্গমন নিয়ন্ত্রণ ও শহরে সবুজায়ন বৃদ্ধি। এসব উদ্যোগ গ্রহণ না হলে ধোঁয়া-ধুলায় ঢাকা আরও বিপর্যস্ত হতে পারে এবং নাগরিকরা প্রতিদিন যে বাতাসে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন তা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য দিনে দিনে আরও তীব্র হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।








Leave a Reply