গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পরদিন শোকের আবহে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো একটি শোকবার্তা তার হাতে তুলে দেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জয়শঙ্কর লেখেন, খালেদা জিয়ার দর্শন ও মূল্যবোধ দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে দিকনির্দেশনা দেবে—এমন প্রত্যাশার কথা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর বিএনপির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত। অতীতে বিএনপি–জামায়াত জোট, পাকিস্তানঘেঁষা রাজনীতি ও ভারতবিরোধী অবস্থানের কারণে নয়াদিল্লি আওয়ামী লীগকেই প্রধান মিত্র হিসেবে বিবেচনা করেছে। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা এখন বদলেছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র–নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার শাসনের পতনের পর বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব জোরালো হয়। এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে এগোচ্ছে। দলটি জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং তারেক রহমান সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের কথা বলছেন, যা ভারতের কাছে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য বার্তা।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সৌজন্য সাক্ষাৎেই সম্পর্কের স্থায়ী পরিবর্তন না এলেও বাস্তবতার প্রয়োজনে ভারত ও বিএনপি পারস্পরিক দূরত্ব কমিয়ে নতুন পথে অগ্রসর হচ্ছে।
Leave a Reply