আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরাইলে আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন। দেশটির আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সর্বশেষ সময়সীমার মধ্যেই এই ভোট আয়োজন করা হচ্ছে। গাজা যুদ্ধ, নিরাপত্তা ইস্যু এবং সরকারের নীতির কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে থাকা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য এই নির্বাচনকে বড় ধরনের জনসমর্থনের পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রোববার (১২ জুলাই) ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেট আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। দেশটির আইন অনুযায়ী, বর্তমান পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২৭ অক্টোবর ভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
নেসেটের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সংসদ তার নির্ধারিত চার বছরের মেয়াদ পূর্ণ করবে। ফলে আগাম নির্বাচন আয়োজনের জন্য পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। চলতি মেয়াদের শেষ অধিবেশন আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট সরকার এই মেয়াদ পূর্ণ করতে পারলে তা হবে দীর্ঘ সময়ের মধ্যে ব্যতিক্রমী ঘটনা। গত প্রায় পাঁচ দশকের মধ্যে এটিই হবে প্রথমবার, যখন ইসরাইলের কোনো সরকার নির্ধারিত পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে যাচ্ছে।
এদিকে, ইসরাইলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি আসন্ন নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। গত জুনে তিনি নিজের প্রার্থিতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর থেকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব নিয়ে দেশে-বিদেশে তীব্র বিতর্ক চলছে। ওই হামলা ইসরাইলের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ নিরাপত্তা ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হয়। হামলার সময় গাজার যোদ্ধারা সীমান্ত অতিক্রম করে ইসরাইলে প্রবেশ করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়।
সমালোচকদের অভিযোগ, সীমান্ত নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণেই হামাস এত বড় হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছিল। এ ঘটনার দায় নিয়ে বিরোধী দল ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের বিরুদ্ধে নানা প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহু সমর্থকরা দাবি করছেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে আগামী নির্বাচনে গাজা যুদ্ধ, নিরাপত্তা, জিম্মি সংকট এবং সরকারের ভবিষ্যৎ নীতি—এসব বিষয়ই প্রধান ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
২৭ অক্টোবরের ভোটে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যেমন নির্ধারিত হবে, তেমনি গাজা যুদ্ধের পর ইসরাইলের জনগণের মনোভাবেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন ঘটবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
Leave a Reply