পুরো দেশে হাটের ছড়াছড়ি, এবার রেললাইনের ওপরও পশুর বাজার’
Reporter Name
Update Time :
Sunday, May 24, 2026
20 Time View
জেলা প্রতিনিধি
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে হাটহাজারী এলাকায় বসেছে পশুর হাট। তবে হাটের একটি বড় অংশ গড়ে উঠেছে সরাসরি রেললাইনের ওপর ও আশপাশজুড়ে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও নিরাপত্তা শঙ্কা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ এ অবৈধ হাটের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
রেলওয়ে আইন অনুযায়ী, রেললাইনের দুই পাশের ১০ ফুট করে মোট ২০ ফুট এলাকা সংরক্ষিত। এই এলাকায় অনুমতি ছাড়া সাধারণ মানুষ কিংবা গবাদিপশুর অবস্থান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রয়েছে। এমনকি ওই এলাকায় গবাদিপশু পাওয়া গেলে তা জব্দ করে নিলামে বিক্রির সুযোগ রয়েছে।
তবে বাস্তবে দেখা গেছে, হাটে আসা বিক্রেতারা রেলের স্লিপার, সিগন্যাল পোস্ট ও পয়েন্টের যন্ত্রাংশের সঙ্গে গরু-ছাগল বেঁধে রাখছেন। কেউ কেউ আবার সরাসরি লাইনের ওপর বসেই পশু বিক্রি করছেন। ট্রেন আসার সংকেত পেলেই শুরু হচ্ছে হুড়োহুড়ি—পশু সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় নিতে ছোটাছুটি করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
কোরবানির পশু কিনতে আসা মো. জামাল উদ্দিন বলেন, রেললাইনের পাশে পশুর হাট বসানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার রাজস্ব পাচ্ছে, তাই নিরাপদ ও নির্দিষ্ট স্থানে হাটের ব্যবস্থা করা উচিত।
একই ধরনের মত দেন গরু বিক্রেতা নূর আলম। তিনি বলেন, ট্রেন চলাচলের মধ্যে পশু নিয়ে অবস্থান করা আতঙ্কের। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রভাবশালীরা হাটহাজারী রেলস্টেশন এলাকায় এই অবৈধ হাট পরিচালনার সুযোগ করে দিচ্ছেন। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
হাটের ইজারাদার মোহাম্মদ ইব্রাহিম সওদাগর বলেন, “দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেভাবে পশুর হাট বসছে, আমরাও সেভাবেই রেললাইনের ওপর হাট বসিয়েছি।”
তবে মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিন জানিয়েছেন, পৌরসভা থেকে রেললাইনের ওপর কোনো পশুর হাটের অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে মো. সুবক্তগীন স্পষ্টভাবে বলেন, রেললাইনে পশুর হাট বসানোর কোনো বৈধতা নেই। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply