পূর্বাচলে হুট করে সংঘটিত এক ভূমিকম্পের মহড়ায় তৈরি হয় বাস্তবসম্মত বিপর্যয়ের দৃশ্য। ভূমিকম্পের আঘাতে বহু মানুষ লুটিয়ে পড়েন, কেউ কেউ আটকা পড়েন ভেঙে পড়া ভবনের নিচে। সঙ্গে সঙ্গে সহায়তার জন্য ফোন করা হয় ফায়ার সার্ভিসে। দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকরা। ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের নির্দেশনায় স্বেচ্ছাসেবকরা আহতদের উদ্ধারে অংশ নেন। বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে দেয়াল কেটে ও ভেঙে আটকে পড়াদের বের করে আনা হয়। এভাবেই স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতার মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
৫ ডিসেম্বর সকালে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পূর্বাচলের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে পালিত হয় আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস। এ উপলক্ষে সারাদেশ থেকে বাছাই করা ২২ জন স্বেচ্ছাসেবককে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। বক্তব্যে বক্তারা বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ শুধু সমাজের জন্য নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণ থাকলে ব্যক্তি নিজের পরিবার ও ঘরবাড়িও নিরাপদ রাখতে পারেন। ধারাবাহিকভাবে কাজ করার মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকরা নিজেদের, শহর এবং দেশকে আরও নিরাপদ রাখতে পারবেন বলেও তারা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, জনগণের সেবার কথা মাথায় রেখেই আইন তৈরি করা হয়। উদ্ধার কাজ চলছে এবং চলতে থাকবে। জনগণের সুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যেকোনো বাহিনী আইন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করতে পারে এবং এসব বিষয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করবে। তিনি নিশ্চিত করেন যে যে আইন জনগণের প্রয়োজনে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে সেটিই গ্রহণযোগ্যতা পাবে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহেদ কামালসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply