নিজস্ব প্রতিনিধি,
বাংলাদেশের সামনের জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি, সীমান্ত–কেন্দ্রিক উত্তেজনা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা ভারতে অবস্থান করছেন—এমন তথ্য বিভিন্ন মহল থেকে উঠে এসেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনের দাবি, এসব নেতা সেখান থেকেই সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং মাঝে মাঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্কতামূলক বার্তা দিচ্ছেন। দুটি মামলায় শেখ হাসিনার দণ্ড ঘোষণার পর তাঁদের নতুন করে সক্রিয় হওয়ার অভিযোগও শোনা যাচ্ছে।
একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হতে পারে। সীমান্তবর্তী ৩২টি সংসদীয় আসনে পলাতক নেতাদের হঠাৎ প্রবেশ, উত্তেজনা সৃষ্টি বা ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আরও আশঙ্কা করা হচ্ছে—সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র আনা হতে পারে, যা নির্বাচনকে ব্যাহত করতে ব্যবহার করা হতে পারে। বিশেষভাবে সংখ্যালঘু ভোটারদের কেন্দ্রের সামনে ভয় দেখিয়ে ভোট দিতে বাধা দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ রয়েছে ওই প্রতিবেদনে।
গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় বিভিন্ন থানায় লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ৪,৪২৩টি উদ্ধার করা গেলেও ১,৩৪০টি এখনও নিখোঁজ। গোয়েন্দাদের মতে, এই অস্ত্রগুলো নির্বাচনকালীন সহিংসতায় ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি আছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক দিলারা চৌধুরী মনে করেন, নির্বাচনের অন্যতম বড় বাধা রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়ের অভাব। তাঁর মতে, সীমান্তে পলাতক নেতাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসনের প্রস্তুতিতে দুর্বলতা রয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি খন্দকার রফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে সম্ভাব্য সব ঝুঁকি মাথায় রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগে অভিযান আরও জোরদার হবে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেও বিশেষ তৎপরতা চলবে।
সব মিলিয়ে নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
Leave a Reply