নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
বিয়ের প্রলোভনে গড়ে ওঠা শারীরিক সম্পর্কের জেরে জন্ম নেয় এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান। আদালতের নির্দেশে হওয়া ডিএনএ পরীক্ষায় পিতৃত্বের বিষয়টি নিশ্চিত হলেও নিজের জন্ম দেওয়া সন্তানকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন না অভিযুক্ত যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর নিতাই ইউনিয়নের পানিয়াল পুকুর মোল্লাপাড়া এলাকায়। অভিযুক্ত যুবকের নাম রায়হান সরকার জয়, যিনি স্থানীয় জাকারিয়া সরকারের ছেলে।
সন্তানের সুনির্দিষ্ট পিতৃপরিচয় না থাকায় এবং জন্ম নিবন্ধন সনদ না মেলায় শিশুটি শিশু বয়সের জরুরি স্বাস্থ্য টিকাদান কর্মসূচি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। নিরুপায় হয়ে সন্তানের অধিকার ও পরিচয়ের দাবিতে আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী মা।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন ভিকটিমের মা তহমিনা বেগম (জিআর নম্বর- ২৭/২৬)। ভিকটিম সিমরান জাহানের (ছদ্মনাম) কোলে বর্তমানে দুই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভিকটিম সিমরান বলেন, “ডিএনএ পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসার প্রায় এক বছর পার হয়ে গেছে। তবুও অভিযুক্ত জয় এবং তার পরিবার আমার বাচ্চাকে মেনে নিতে রাজি হচ্ছে না। আমি কেবল আমার সন্তানের বাবার পরিচয় আর তার জীবনধারণের ন্যায্য অধিকার চাই।”
নিজের চরম দুর্দিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, “সন্তান জন্ম নেওয়ার পর বুকের দুধ পাচ্ছিল না। দুধ কেনার টাকা না থাকায় নিজের রক্ত বিক্রি করে বাচ্চার খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়েছে। আর্থিক টানাফোড়েনে ১৫ মাসের একটা শিশুকে টানা ৪৮ ঘণ্টা দুধের বদলে শুধু পানি খাইয়ে রাখতে হয়েছিল। একজন মায়ের পক্ষে এর চেয়ে বড় নির্মমতা আর কী হতে পারে? এত কিছুর পরও আসামি বা তার পরিবারের মন গলছে না।”
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা সজীব জানান, আদালতের নির্দেশে সংগৃহীত ডিএনএ রিপোর্টটি ইতিপূর্বে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ হিসেবে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। সাক্ষ্য ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, একটি নিষ্পাপ শিশুর ভবিষ্যৎ ও আইনগত অধিকার নিশ্চিতে দ্রুত বিচারিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
Leave a Reply