নিজস্ব প্রতিনিধি,
রংপুরে গতকাল অনুষ্ঠিত আট দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে আজও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সমাবেশে অংশ নেওয়া দলগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত না হলে তারা পূর্ণাঙ্গভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে না।
সমাবেশের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জোটের অভিন্ন কৌশল এখন “গণভোট–পূর্ব নির্বাচন”—এই দাবি ঘিরেই সংগঠিত হচ্ছে তাদের সমমঞ্চ। বক্তারা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি এবং নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিলের পূর্বেই গণভোটের তারিখ নির্ধারণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম, এবং ইসলামী খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বক্তব্য রাখার কথা ছিল। এছাড়া বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি এবং জাগপার কেন্দ্রীয় নেতারাও বক্তব্য প্রদান করেন।
গতকালের সমাবেশে একটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কাড়ে—
এটি শুধু রাজনৈতিক সমাবেশ নয়; বরং অনেকটা নির্বাচনী শোডাউনের আকারও ধারণ করে।
রংপুর বিভাগের আট জেলার ৩৩টি আসন থেকে দলীয় প্রার্থী–নেতাকর্মীরা প্রতীক–বাহিত মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। বিশেষ করে দাঁড়িপাল্লা ও হাতপাখা প্রতীকের ব্যানার–ফেস্টুন মাঠজুড়ে দেখা যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের দিকেই একটি শক্ত বার্তা—
জোট শুধু দাবি জানিয়ে থেমে নেই; বরং নিজেদের সাংগঠনিক শক্তিও প্রদর্শন করছে।
তাদের দাবি, গণভোট কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ নয়, বরং জুলাই সনদে ঘোষিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে জনগণের ‘ম্যান্ডেট নির্ধারণের’ বাধ্যতামূলক ধাপ।
এদিকে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সমাবেশ থেকে তীব্র সমালোচনাও করা হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন—
বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ বিরোধী দলগুলোর জন্য অনুকূল নয়; প্রশাসন ও মাঠপর্যায়ের ক্ষমতার ব্যবহারে বৈষম্য রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, রংপুরের এই সমাবেশ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনকে আরও উষ্ণ করে তুলেছে। এখন নজর—আসন্ন দিনে নির্বাচন কমিশন বা সরকার এই গণভোট–সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায় কি না।
Leave a Reply