নিজস্ব প্রতিনিধি
দেশের রাজনীতিতে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অটল অবস্থান, আপসহীন নেতৃত্ব আর অবিচল সাহসের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। বাধা, দমন-পীড়ন, কারাবাস—কিছুই তাকে তার লক্ষ্যে টলাতে পারেনি। রাজনৈতিক প্রতিটি সঙ্কটে তিনি বারবারই দেখিয়েছেন দৃঢ়তা এবং আপসহীন অবস্থান।
স্বামী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যার পর রাজনৈতিক অস্থিরতার কঠিন সময়ে দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন তিনি। সেনাশাসন, একদলীয় চাপ আর কঠোর রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও তিনি কখনো আপোষের পথ বেছে নেননি।
১৯৮৬ সালের নির্বাচন—সেনাশাসনের ছায়ায় অনিশ্চিত সময়। রাজনীতিতে টিকে থাকার সুবিধাজনক পথ ছিল নির্বাচনে অংশগ্রহণ। কিন্তু খালেদা জিয়া সেই ‘সহজ পথ’ নেননি। বিএনপির পক্ষ থেকে তিনি সেদিন নির্বাচন বর্জনের কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। এটিই প্রথম তাকে জাতীয় রাজনীতিতে আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিতি দেয়।
১৯৯১ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পান তিনি। পুরো মেয়াদে শাসন শেষে ১৯৯৬ সালে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেন—যা পরে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে সমালোচিত হয়। কিন্তু সেই ভুল বুঝে খালেদা জিয়া ক্ষমতার চেয়ার আঁকড়ে ধরা নয়, বরং জনমতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা ছেড়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের পথ খুলে দেন।
রাজনীতিতে এমন উদাহরণ বিরল—ভুল স্বীকার, সংশোধন এবং জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।
২০১৪ সালে আবারও কঠিন সময়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে অনড় থাকেন তিনি। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত তার নেতৃত্বকে আরও দৃঢ় করে তোলে। অনেক চাপ সত্ত্বেও অবস্থান বদলাননি তিনি।
২০১৮ সালের দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ কারাবাস, বয়স ও শারীরিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক চাপ—সবকিছু মিলিয়ে ছিল সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু সমর্থকরা বিশ্বাস করেন, এ সময়ই তার আপসহীন নেতৃত্বের পরিচয় সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত, নীতি ও আদর্শের প্রতি অবিচল অবস্থানই তাকে আজ “আপসহীন নেত্রী” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মূল্য দিতে হয়েছে—তবু আপোষ করেননি। এই দৃঢ়তা তাকে বাংলাদেশ রাজনীতির ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
Leave a Reply